ফিফা সভাপতি সম্প্রতি একটি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। এই মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ দায়িত্বশীলের কাছ থেকে এসেছে, যা দেশের ফুটবল উত্সাহীদের মধ্যে নতুন আশা জাগিয়েছে।
গত বুধবার দেশের ফুটবল অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বিশ্বকাপের ট্রফি দেখার পর অনুপ্রাণিত হন। ট্রফি ঢুকে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি শেয়ার করেন, যেখানে তিনি ট্রফি ও তার নিজস্ব উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত তুলে ধরেছেন।
ইনস্টাগ্রামে একজন অনুসারী জামালকে জিজ্ঞেস করেন, “বাংলাদেশ কখনো বিশ্বকাপে খেলবে কি?” এই প্রশ্নের উত্তরে ফিফা সভাপতি এক পোস্টে সরাসরি উত্তর দেন, “অবশ্যই, বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারে।” তিনি আরও যোগ করেন, “বাংলাদেশের ফুটবল দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলছে, এবং খেলাটির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, ফলে দেশের জন্য একটি সুযোগ রয়েছে।”
এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসে একবার এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা ১৯৮০ সালের এশিয়ান কাপের সময়। যদিও সেই সময়ের পর থেকে দেশটি এশিয়ান কাপের বাছাই পর্যায়ে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তবু স্বপ্ন কখনো নিভে যায়নি।
সাম্প্রতিক এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দেশীয় ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করা হয়। হমজা চৌধুরী ও শমিত শোমদের মতো বিদেশে বসবাসকারী ফুটবলারদের প্রত্যাশা ছিল বড়, তবে শেষ পর্যন্ত দলটি প্রত্যাশিত ফলাফল দিতে পারেনি। তবু এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে উন্নয়নের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বকাপের সূচনা ১১ জুন থেকে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে হবে। এইবারের টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে, যা পূর্বের ৩২ দলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ফিফা ভবিষ্যতে দলসংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা বাংলাদেশের মতো উদীয়মান ফুটবল দেশগুলোর জন্য নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করতে পারে।
ফিফা সভাপতি যে মন্তব্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন, তা দেশের ফুটবল সংস্থার জন্য একটি প্রেরণাদায়ক সিগন্যাল। তিনি উল্লেখ করেছেন, “বাংলাদেশের ফুটবল দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে, এবং সঠিক পরিকল্পনা ও সমর্থন থাকলে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছানো সম্ভব।” এই বক্তব্যটি দেশের ফুটবল প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নতি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ট্রফি দেখার পর তার দলের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, “আমরা এখনো অনেক দূরে, তবে এই ট্রফি আমাদের জন্য একটি উদ্দীপনা, যা আমাদেরকে কঠোর পরিশ্রমে উদ্বুদ্ধ করবে।” তার এই উক্তি তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে এবং প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত উন্নয়নে মনোযোগ বাড়াবে।
বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা এখনো বিশ্বকাপের স্বপ্নকে জীবন্ত রাখছেন। যদিও বর্তমান পর্যায়ে দলটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে বড় সাফল্য অর্জন করেনি, তবু ফিফা সভাপতি ও অধিনায়কের উক্তি দেশীয় ফুটবলের উন্নয়নের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে।
আসন্ন বিশ্বকাপের বিস্তৃত কাঠামো এবং সম্ভাব্য দলবৃদ্ধি পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে। যদি দেশটি ধারাবাহিকভাবে অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও তরুণ প্রতিভার বিকাশে বিনিয়োগ করে, তবে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের নাম শোনা সম্ভব হতে পারে।
এইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের ফুটবল সংস্থা ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ, স্থানীয় লিগের গুণগত মান উন্নয়ন এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এভাবেই বাংলাদেশ তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারবে।



