22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগাংনীতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি চিরকুট পাওয়া যায়

গাংনীতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হুমকি চিরকুট পাওয়া যায়

গাংনী উপজেলায় জোড়পুকুরিয়া গ্রামার একটি দোকানের দেয়ালে হুমকি সম্বলিত চিরকুট লেগে থাকা দেখা যায়। চিরকুটে স্থানীয় বিএনপি দলের সাতজন নেতা ও কর্মীর নাম উল্লেখ করে তাদের হত্যা করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। হুমকির সময়সূচি ও দায়ী গোষ্ঠী হিসেবে “জোড়পুকুর আওয়ামী লীগ” নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার সকাল ১৬ জানুয়ারি জানানো হয়েছে।

চিরকুটে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা হলেন হাফিজুল ইসলাম, এনামুল, মহিবুল, সেন্টু, রফিকুল, মিঠুন এবং জিকো। প্রতিটি নামের পাশে “মারা যাবে” বা “দুনিয়া ছাড়া হবে” এমন হুমকি যুক্ত করা হয়েছে। হুমকিদাতারা গ্রামছাড়া করার প্রতিশোধ হিসেবে এই কাজটি করা হবে বলে দাবি করেছে। নোটে “তোদের আমরা দুনিয়া ছাড়া করব, তৈরি থাকিস” এমন বাক্যাংশ ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিরকুটটি বৃহস্পতিবার রাতের কোনো সময়ে দেয়ালে টাঙানো হয়। পরের দিন সকালে গ্রামবাসীরা দোকানে গিয়ে তা লক্ষ্য করে অবিলম্বে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে জানায়। নোটটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রামজুড়ে আতঙ্কের স্রোত তৈরি করে। স্থানীয় মানুষদের মতে, এমন হুমকি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

চিরকুটের বিষয়টি জানার পর গ্রামবাসীরা দ্রুত পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে এবং দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানায়। তারা উল্লেখ করে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হিংসা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগের ত্বরান্বিত ব্যবস্থা দরকার। হুমকির পেছনে নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম প্রকাশ না করলেও, কিছু লোকের মতে “আওয়ামী লীগ” এর কিছু নেতা-কর্মী এই ধরনের কাজের দায়ী হতে পারে।

একটি অনামধেই বিএনপি কর্মী, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই ধরনের হুমকি আসছে। চিরকুট পাওয়ার পর আমাদের নেতারা ভয় পেয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে রাজনৈতিক পরিবেশ আরও অশান্ত হয়ে উঠবে।”

গাংনী থানা থেকে ওয়ান-সিনিয়র অফিসার উত্তম কুমার দাস জানান, “হুমকি চিরকুটের বিষয়টি আমরা জানি এবং তদন্ত শুরু করেছি।” তিনি উল্লেখ করেন, “পুলিশ মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, প্রমাণ সংগ্রহ ও সন্দেহভাজন সনাক্তকরণে অগ্রগতি হচ্ছে।” দাস আরও বলেন, “যে কোনো অপরাধীকে আইনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে না।”

তদন্তের প্রথম ধাপে চিরকুটটি কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে তা দোকানের দেয়ালে টাঙানো হয়েছে তা নির্ণয় করা হবে। স্থানীয় দোকানদার ও প্রতিবেশীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে, পাশাপাশি নোটের কাগজের ধরন ও লেখার শৈলী বিশ্লেষণ করা হবে। পুলিশ গ্রামবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত গশ্বর ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনার পর গাংনী থানা ও জেলা প্রশাসন উভয়ই নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন হুমকি মোকাবিলায় জরুরি দল গঠন করেছে এবং গ্রামজুড়ে পুলিস পেট্রোল বাড়াবে। এছাড়া, হুমকির শিকারদের জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গে আপডেট প্রদান করা হবে। স্থানীয় জনগণ এবং রাজনৈতিক দল উভয়ই এই ধরনের হিংসাত্মক হুমকি বন্ধের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা চলমান।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments