ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণে বাধ্য করার জন্য কোনো আন্তর্জাতিক চাপ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের লক্ষ্য হবে একটি স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত, সুন্দর ও ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আলম জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় নয় লক্ষ সদস্যের প্রশিক্ষণ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রশিক্ষণ শেষে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃঢ়তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তদুপরি, বিদেশি বন্ধুদের কাছ থেকে এই নির্বাচনের সফলতা নিশ্চিত করতে সমর্থন ও উৎসাহের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিককে তুলে ধরে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোনো চাপ না থাকার মূল কারণ হিসেবে আলম উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের অতীতকালে গুম, খুন ও ভয়ানক ডাকাতির ঘটনা বিশ্বব্যাপী পরিচিত। এই ইতিহাসের আলোকে কোনো দেশ বা সংস্থা তাদেরকে নির্বাচনে অংশ নিতে চাপ দিচ্ছে না, বরং তাদের নিজস্ব দায়িত্বের স্বীকৃতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা ক্ষমা চাওয়ার সুযোগই পায়নি, ফলে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমে গেছে।
আলমের মতে, গত সাড়ে পনেরো বছরে আওয়ামী লীগের বহু সদস্য ভোটদান থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তবে এবার তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করার সুযোগ পাবে। এই পরিবর্তনকে তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে তুলে ধরেন।
বিপক্ষের ক্ষমতা সম্পর্কে আলমের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কোনো গোপন শক্তি নির্বাচনের ফলাফল বদলাতে সক্ষম নয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দল কেবল জ্বালানো, পুড়িয়ে ফেলা ও মানুষ হত্যা করতে পারে, আর তার বাইরে তাদের কার্যক্ষমতা সীমিত। অতএব, তাদের মিছিলে আর কেউ যায় না, এবং যারা ডলার নিয়ে দেশ ত্যাগ করেছে, তারা আর ফিরে আসার ইচ্ছা দেখায় না। এই অর্থনৈতিক সম্পদ এখন অন্য খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
বক্তা শেষ অংশে ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশে স্বৈরাচার দূর করতে চান, তবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন; এভাবে স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। এই আহ্বানকে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠন ও গণতন্ত্রের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। দপ্তর সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম পারভেজের সঞ্চালনায় সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা, সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আরজু এবং অন্যান্য সদস্যদের বক্তব্য শোনা যায়। সকল অংশগ্রহণকারী আলমের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।



