28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয় উদ্বোধনে ছুরিকাঘাতে কর্মী নিহত

ধোবাউড়া উপজেলার ঘোষগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয় উদ্বোধনে ছুরিকাঘাতে কর্মী নিহত

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা, ঘোষগাঁও ইউনিয়নের এরশাদ বাজারে শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষে ৪০ বছর বয়সী মো. নজরুল ইসলাম ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান। ঘটনাটি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের পরই ঘটে, যেখানে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা লক্ষ্যভেদ করে হামলা চালায়। গুলিবিদ্ধকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে চিকিৎসকেরা দ্রুত তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নজরুল ইসলাম, বাকপাড়া গ্রাম, ঘোষগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা, ওই সময় কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের বাকপাড়া গ্রামে অবস্থিত, এবং তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। গুলিবিদ্ধের বয়স চল্লিশ এবং তিনি পরিবারসহ গৃহস্থালি জীবনে যুক্ত ছিলেন।

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থীর অভ্যন্তরীণ বিরোধ। বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহের অধীনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সালমান ওমর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওমর পূর্বে উত্তর জেলা বিএনপি সদস্য হিসেবে কাজ করলেও, এই নির্বাচনে তিনি দলীয় সমর্থন ছাড়া স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শুক্রবার বিকেলে সালমান ওমরের দল তার নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনের জন্য একটি সমাবেশ আয়োজন করে। উদ্বোধনের কিছুক্ষণ পরই বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকরা গুলিবিদ্ধের দিকে অগ্রসর হয়ে ছুরিকাঘাত চালায়। গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সঙ্গে অন্য কয়েকজনও আঘাতপ্রাপ্ত হন, তবে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

সালমান ওমর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে মিডিয়ার সামনে বলেন, তার সমর্থকরা কার্যালয় উদ্বোধনের পরই বিএনপি সমর্থকদের আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং ছুরিকাঘাতে তার এক কর্মী নিহত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই হামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের ফল।

বিএনপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ ঘটনাটি সম্পর্কে মন্তব্য করে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে গুলিবিদ্ধের পরিবারিক সমস্যার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এখন রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলই এ ধরনের হিংসা সমর্থন করবে না এবং যদি দলের কোনো সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত পাওয়া যায় তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে দুইজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেন। তিনি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কার্যালয় উদ্বোধনের সঙ্গে যুক্ত হিংসা বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে এবং গ্রেফতারের পরপরই সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়েছে ছুরিকাঘাত, এবং তদন্ত চলমান। গুলিবিদ্ধের পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে, এবং গুলিবিদ্ধের মৃতদেহের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মামলাটি আদালতে দাখিল করা হবে।

আইনি দিক থেকে, গুলিবিদ্ধের পরিবার গৃহহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলায় শিকায়িত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অপরাধ, হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক হিংসা সংক্রান্ত আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, আদালত প্রয়োজনীয় রায় প্রদান করবে এবং শিকারের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এই ধরনের রাজনৈতিক হিংসা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের আহ্বান রয়েছে যে, সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী শান্তিপূর্ণ প্রচারাভিযান বজায় রাখবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী সময়ে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments