ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে পারছেন না; ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজকরা তার আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করেছে।
এই সিদ্ধান্তটি ফেব্রুয়ারি মাসে সম্মেলন কমিটির দ্বারা নেওয়া হয় এবং ১৬ জানুয়ারি শুক্রবারের একটি সংবাদ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর কঠোর দমন চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বৈধ প্রতিবাদে ধর্মীয় শাসনের বিরোধিতা করা demonstrators-দের ওপর গুলি চালানো এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণের বিরোধিতা প্রকাশ করেছে এবং জোর দিয়েছে যে মানবাধিকার লঙ্ঘনকে উপেক্ষা করা যাবে না।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা নীতি নির্ধারক, বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের সমাবেশের উদ্দেশ্য।
আয়োজকরা উল্লেখ করেছেন যে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন করার সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নীতি প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিকাশকে বিবেচনা করে, সম্মেলন কমিটি আরাকচির আমন্ত্রণ রদ করেছে এবং তার পরিবর্তে অন্য কোনো ইরানি প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি সীমিত হবে এবং জার্মানি-ইরান সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয়, আমেরিকান ও এশীয় দেশের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে, তবে ইরানের সরাসরি অংশগ্রহণের অনুপস্থিতি বিষয়টি আলোচনার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়াবে।
সম্মেলনের আয়োজকরা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি অনুসারে অংশগ্রহণকারীর তালিকা পুনর্বিবেচনা করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, এবং এই বছরও তা বজায় রাখবে, যদিও ইরানের প্রতিনিধিত্বের অভাব একটি নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করবে।



