অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা সালেহুদ্দিন আহমেদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (RNPP) পরিদর্শন করে জানান, এই প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে এবং শক্তি নিরাপত্তা দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পারমাণবিক শক্তি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে সহায়তা করবে। এই মন্তব্যগুলো রূপপুরে আজকের সফরের সময় প্রকাশিত হয়।
সালেহুদ্দিন আহমেদ, যিনি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরামর্শদাতার দায়িত্বও পালন করেন, প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের জন্য সাইটে গিয়েছিলেন। সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়ার শেষ ধাপগুলো কীভাবে সম্পন্ন হবে তা জানানো। তিনি现场ে কর্মীদের কাজের ধরণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ দেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি নির্মাণের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এবং বিভিন্ন ধাপের অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট গ্রহণ করেন। প্রকল্পের সময়সূচি, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং সমাধানগুলো সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সময়মত সম্পন্ন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের সঙ্গে আলোচনায় তিনি প্রযুক্তিগত বাস্তবায়ন এবং অপারেশনাল রোডম্যাপের মূল দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর পান। এ ধরনের আলোচনা প্রকল্পের সফলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
সালেহুদ্দিন আহমেদ কর্মকর্তাদের রাতো রাত কাজের জন্য প্রশংসা করেন এবং তাদের নিবেদনকে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ছাড়া প্রকল্পের সময়মত সমাপ্তি সম্ভব নয়। তার মন্তব্যে দলগত কাজের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে নির্মাণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা হচ্ছে। পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে বহু বছর সময় ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রয়োজন ছিল।
সালেহুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সফরে ছিলেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রশিদ, ফাইন্যান্স ডিভিশন সেক্রেটারি মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সেক্রেটারি মো. অন্বর হোসেন এবং ইকোনমিক রিলেশনস ডিভিশন (ERD) সেক্রেটারি মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকি। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বয় নিশ্চিত করেন। তাদের উপস্থিতি প্রকল্পের গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সফলতা দেশের শক্তি মিশ্রণে পারমাণবিক শক্তির অংশ বাড়াবে। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিবেশগত টেকসইতা দুটোই নিশ্চিত করতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে কী ধরনের নীতি সমর্থন করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া দরকার।



