টাঙ্গাইল সদর থানা আদালতে শুক্রবার বিকালে চলন্ত বাসে এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে চালক ও দুই সহকারীকে গ্রেফতারের পর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়। ২৩ বছর বয়সী নারী বৃহস্পতিবার রাতে সাভার রেডিও কলোনি থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসে তখন মাত্র তিনজন যাত্রী ছিলেন; দুইজন অন্য গন্তব্যে নেমে যাওয়ার পর, নারীকে একসাথে আটকে রাখা হয় এবং তার কানের দুল, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বসের চালক ও সহকারী নারীর উপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে যান এবং বাসটি বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে রাতভর ধর্ষণ চালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী নারী বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এই ঘটনার শিকার হন। পরের দিন দুপুরে ঢাকা‑টাঙ্গাইল মহাসড়কের করটিয়া আন্ডার পাস এলাকায় সন্দেহজনকভাবে থেমে থাকা বাসটি হাইওয়ে পুলিশ থামায়, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চালক ও দুই সহকারীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন দিনাজপুরের নরদেরাই গ্রাম থেকে আসা ২৫ বছর বয়সী বাস চালক মো. আলতাফ, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার আব্দুল পাগা গ্রাম থেকে ২৪ বছর বয়সী সহকারী মো. রাব্বি এবং ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরহাট গ্রাম থেকে ২৪ বছর বয়সী মো. সাগর। অপরাধে যুক্ত তৃতীয় সন্দেহভাজন বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়ার পর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন। তার শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রকাশ করা হবে।
ভিকটিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি টাঙ্গাইল সদর থানায় বৃহস্পতিবার রাতেই দাখিল করা হয়। ওই রাতে ভুক্তভোগী নারী, চালক ও তার দুই সহকারীসহ মোট চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ওসিআই রুহুল আমিন জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনো মামলা আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকালে টাঙ্গাইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর থানা আমলী আদালতে বিচারক রুমেলিয়া সিরাজাম গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করেন। তিনি ১৬৪ ধারার অধীনে জবানবন্দি গ্রহণের পর, তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেনের মতে, জবানবন্দি সম্পন্ন হওয়ার পরই গ্রেফতারকৃতদের কারাবাসে স্থানান্তর করা হয়।
অধিক তদন্তের জন্য হাইওয়ে পুলিশ ও টাঙ্গাইল সদর থানার তদন্তকারী দল একত্রে কাজ করছে। তারা গ্রেফতারকৃতদের অতীত অপরাধ রেকর্ড, অন্যান্য মামলার সঙ্গে সংযোগ ইত্যাদি বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করছে। এছাড়া, ভুক্তভোগীর শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর টাঙ্গাইলের স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নারী নিরাপত্তা ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে বাস চালক ও সহায়ক কর্মীদের উপর কঠোর তদারকি এবং রাস্তায় চলমান গাড়ির নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, এই অপরাধের শিকার নারী এখন চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন, অপরাধীরা আদালতে শাস্তি পেতে মুখোমুখি। তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানার জন্য প্রকাশ করা হবে।



