রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনে ১৬ জানুয়ারি রাত্রি ৪:৩০ টার দিকে তেল‑টাকার দাবি নিয়ে গাড়ি চাপা দিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। ৩০ বছর বয়সী রিপন সাহা, খানখানাপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রাম থেকে আসা শ্রমিক, তেল সংগ্রহের সময় গাড়ি চালকের দ্বারা গাড়ির নিচে ধাক্কা খেয়ে প্রাণ হারায়।
ঘটনা ঘটার সময় গাড়ি মালিক আবুল হাসেম (সুজন), ৫৫, রাজবাড়ী জেলার সাবেক বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি, এবং গাড়ি চালক কামাল হোসেন, ৪৩, উপস্থিত ছিলেন। গাড়িটি কালো রঙের ল্যান্ড ক্রুজার, ঢাকা মেট্রো রেজিস্ট্রেশন নম্বর GH‑13‑347৬।
স্টেশন কর্মীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি পাম্প থেকে পাঁচ হাজার টাকার তেল নেয়ার পর টাকা না দিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। রিপন সাহা গাড়ি থামাতে বাধা দিলে, গাড়ির মালিক গাড়ি চালু করে দ্রুত গন্তব্যের দিকে রওনা হয়। গাড়ি চালকের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি রিপন সাহার পায়ের নিচে চাপা দেয় এবং তিনি তৎক্ষণাৎ মৃত অবস্থায় পড়ে।
স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডে দেখা যায়, গাড়ি পাম্পে এসে তেল নেওয়ার পর গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন রিপন সাহা ও আবুল হাসেম। কিছুক্ষণ পর আবুল হাসেম গাড়িতে উঠে বসেন এবং গাড়ি টানতে শুরু করেন। গাড়ি চলতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রিপন সাহা দৌড়ে গাড়ির পেছনে ছুটে যান, তখন গাড়ি তাকে চাপা দেয়।
ঘটনার পরপরই স্টেশনের অন্য শ্রমিক জাকির হোসেন তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা‑খুলনা মহাসড়ক পর্যন্ত দৌড়ে গিয়ে মৃতদেহটি দেখতে পান। লাশটি মহাসড়কে পেয়ে পুলিশকে জানানো হয় এবং পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
আহ্লাদিপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মিজানুর রহমানের মতে, গাড়ি চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে তেল‑টাকার জন্য গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গাড়ি জব্দ করা হয়েছে এবং দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশের জানানো অনুযায়ী, গাড়ি মালিক আবুল হাসেমকে বড় মুরারীপুর গ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে এবং গাড়ি চালক কামাল হোসেনকে বানিবহ নিজপাড়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা, গাড়ি চুরি, এবং তেল চুরি সহ বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আহ্লাদিপুর হাইওয়ে থানা গাড়ি জব্দের পাশাপাশি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও রেকর্ড যাচাই করে গাড়ির মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ঢাকা মেট্রো রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমে নিবন্ধিত, যা গাড়ি চালকের পরিচয় ও গাড়ির মালিকের তথ্য প্রকাশ করে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুসারে, গাড়ি চাপা দিয়ে প্রাণহানি ঘটানো অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, তেল চুরি ও টাকার জন্য গাড়ি চালানোর মতো অপরাধের জন্যও কঠোর শাস্তি নির্ধারিত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে মামলার শুনানি নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় জনগণ শোক প্রকাশ করেছে এবং তেল স্টেশন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা চেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।



