ঢাকা, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ – অমল সেনের মৃত্যু ২৩ বছর পর আজ শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আজকের দিনে একত্রিত হয়ে তার স্মরণে সম্মানসূচক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছে। শোকস্মরণীটি রাজধানীর একটি সরকারি হলের সামনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতারা সেনের রাজনৈতিক অবদান ও আদর্শকে স্মরণ করে মন্তব্য করেছেন।
আওয়ামী লীগ থেকে উপস্থিত উচ্চপদস্থ নেতারা অমল সেনের স্বনির্ভরতা ও জনগণকে ক্ষমতায় আনতে তার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে, বর্তমান সরকারের নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্য উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছে, সেনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনো চলমান এবং তা সম্পন্ন করতে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
বিএনপির প্রতিনিধিরা অমল সেনের রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তার স্বতন্ত্র নেতৃত্বের গৌরবকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছে, সেনের সময়কালে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সীমিত করে জনগণের অধিকার বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল, যা আজকের রাজনৈতিক পরিবেশে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন।
জাটিয়া পার্টির প্রতিনিধিরা সেনের সামাজিক ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্যমুক্তি লক্ষ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে, তার আদর্শকে আধুনিক বাংলাদেশে বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেছে, সেনের কর্মসূচি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে, কিছু ছোট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও স্বাধীন প্রার্থীও শোকস্মরণীতে অংশগ্রহণ করে, অমল সেনের স্বনির্ভরতা, দারিদ্র্যমুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি তাদের সম্মান প্রকাশ করেছে। তারা একত্রে বলেছে, সেনের আদর্শের ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা উচিত, যাতে তরুণ প্রজন্মের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে, উপস্থিত সকল দল একত্রে অমল সেনের স্মৃতিতে ফুল অর্পণ করে এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানায়। শোকস্মরণীর সময় কিছু নেতার মন্তব্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তারা উল্লেখ করেছে, সেনের আদর্শের পুনরুজ্জীবন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, অমল সেনের স্মরণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ বিভিন্ন দলকে একত্রিত করার একটি সুযোগ হতে পারে, যা রাজনৈতিক সংলাপকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের নতুন কৌশল উদ্ভাবনে সহায়তা করবে। বিশেষ করে, সেনের স্বনির্ভরতা ও জনগণকে ক্ষমতায় আনার ধারণা বর্তমান সরকারের নীতি সমালোচনার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
অমল সেনের পরিবারও শোকস্মরণীর সময় উপস্থিত হয়ে, তার স্মৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন। পরিবারিক সদস্যরা সেনের রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তার মানবিক গুণাবলী ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সেনের আদর্শের ধারাবাহিকতা দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারকে সমৃদ্ধ করবে।
এই শোকস্মরণীটি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক ধরনের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন দল তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে, তবে অমল সেনের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে একত্রিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। ভবিষ্যতে, সেনের আদর্শের পুনরাবৃত্তি এবং তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন দেশের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন।
সামগ্রিকভাবে, অমল সেনের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তারা তার স্বপ্নকে পুনরায় জোরদার করে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করেছে।



