22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যে গণভোটে সরকারী একতরফা প্রবণতা উন্মোচিত

ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যে গণভোটে সরকারী একতরফা প্রবণতা উন্মোচিত

ড. আসিফ নজরুল, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা, গতকাল ঢাকার বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের অতীতের সব গণভোটে সরকার একপক্ষীয়ভাবে কাজ করেছে এবং এসব ভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন শাসন গঠন হয়নি।

তিনি বলেন, সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরাসরি শোনানো হচ্ছে। এই প্রচারাভিযানকে তিনি সরকারী স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করেন।

ড. নজরুলের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচনকে তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই তিনটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকভাবে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে।

সরকারের উদ্যোগে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং জুলাই চার্টার প্রণয়নের প্রচেষ্টা সম্পর্কে তিনি জানান, এই দুইটি প্রকল্পের পক্ষে সক্রিয় সমর্থন ও প্রচার চলছে। তিনি এ প্রকল্পগুলোকে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূল ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।

ড. নজরুল উল্লেখ করেন, গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা হল সংস্কার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও এই প্রত্যাশা পূরণে সংস্কারকে কেন্দ্র করে কাজ করছে এবং তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্তরে প্রচার চালাচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি সাধারণ নাগরিকদেরও আবেদন করেন যে, তারা সরকারের সংস্কারমূলক উদ্যোগকে সমর্থন করে দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই প্রকৃত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি।

বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রধান বিরোধী দলগুলো সরকারকে গণভোটে একতরফা সুবিধা প্রদান করার অভিযোগে সমালোচনা করেছে। তারা দাবি করে যে, এমন পদ্ধতি ভোটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে।

বিরোধী দলগুলো এছাড়াও উল্লেখ করেছে, সরকারী ‘হ্যাঁ’ প্রচারাভিযান ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগকে সীমিত করে। তারা দাবি করে, ভোটের ফলাফলকে পূর্বনির্ধারিত করে তুলতে সরকার অতিরিক্ত প্রভাব ব্যবহার করছে।

এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে, ড. নজরুলের মন্তব্যগুলো রাজনৈতিক আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী নীতি ও সংস্কার পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার গণভোটের মাধ্যমে জনমতকে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করতে না পারে, তবে তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

অন্যদিকে, সরকারী পক্ষের মতে, বর্তমান সংস্কারমূলক উদ্যোগগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য এবং এগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তারা বিশ্বাস করে, এই নীতিগুলো দেশের আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করবে।

ড. আসিফ নজরুলের মন্তব্যের পর, প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারাও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন এবং উল্লেখ করেন, গণভোটের ফলাফলকে দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। শেষ পর্যন্ত, তিনি আবারও জনগণকে আহ্বান জানান, সংস্কারকে সমর্থন করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে।

৭৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বাংলানিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments