ঢাকা, শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশের রাজনীতিবিদ তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি আজ বিকালে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আলোচনা করেছেন। বৈঠকটি দু’পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।
তারেক রহমান, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন, এই ভার্চুয়াল সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ পেয়েছেন। উভয় পক্ষই বৈঠকের আগে ইমেইল ও টেলিফোনের মাধ্যমে এজেন্ডা নির্ধারণ করে, যাতে সময়সীমার মধ্যে মূল বিষয়গুলোকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যায়।
মিটিংয়ের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা, বিনিয়োগের সুযোগ, এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এছাড়া, উভয় দেশই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চুক্তি ও প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে আরও সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা রয়েছে।
তারেক রহমানও বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, বাংলাদেশ তার অবকাঠামো, শক্তি ও ডিজিটাল সেক্টরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহায়তা থেকে উপকৃত হতে পারে। এছাড়া, তিনি দেশের যুবশক্তি ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেছেন।
এই বৈঠকটি দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে, একই সঙ্গে দেশীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে এই ধরনের বৈদেশিক সংলাপের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণের দাবি করা হচ্ছে।
বৈঠকের পর উভয় পক্ষই পরবর্তী ধাপে আরও বিস্তারিত আলোচনার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ভবিষ্যতে সরাসরি ভিজিটের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছেন, যেখানে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসে প্রকল্প ভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে, তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য কাজ করবেন।
এই ভার্চুয়াল বৈঠকটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও উল্লেখযোগ্য দৃষ্টি পেয়েছে, যা বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি নতুন দিককে প্রকাশ করে। উভয় পক্ষের প্রকাশ্য বিবৃতি অনুসারে, ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়াতে নিয়মিত সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, উভয় দেশই পরবর্তী মাসে নির্দিষ্ট প্রকল্পের ওপর কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছে।



