বেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবের ৭৬তম সংস্করণে ১২ ফেব্রুয়ারি, বার্লিনেল প্যালাস্টে আফগান চলচ্চিত্র নির্মাতা শারবনু সাদাতের তৃতীয় ফিচার ‘নো গুড মেন’ বিশ্বপ্রিমিয়ার দিয়ে উদ্বোধন হবে। এই অনুষ্ঠানটি উৎসবের উদ্বোধনী গালা হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
শারবনু সাদাতকে বিশ্ব সিনেমার অন্যতম উদীয়মান কণ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার নতুন কাজটি পূর্বের দুই চলচ্চিত্রের সাফল্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে তিনি আফগান নারীর জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে রোমান্স ও হাস্যরসের ছোঁয়া দিয়ে উপস্থাপন করেছেন।
‘নো গুড মেন’ তার তৃতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, পূর্বে তিনি ‘উলফ অ্যান্ড শিপ’ (২০১৬) ও ‘পারওয়াশগাহ’ (২০১৯) তৈরি করেছিলেন। উভয়ই ক্যান্সের ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে প্রদর্শিত হয় এবং ‘উলফ অ্যান্ড শিপ’ শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি পায়।
‘পারওয়াশগাহ’, যা ‘দ্য অর্ফানেজ’ নামেও পরিচিত, বার্লিনেল বিশ্ব সিনেমা তহবিলের আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল। এই তহবিলের সমর্থন সাদাতের চলচ্চিত্রকে গ্লোবাল দর্শকের কাছে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সাদাত ২০২১ সালে তালেরবানের কাবুল দখল হওয়ার পর দেশের বাইরে পালিয়ে গিয়েছিলেন। তার এই অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ নতুন চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে, যা এখন বার্লিনের বড় পর্দায় উপস্থাপিত হবে।
‘নো গুড মেন’ বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, এবং চলচ্চিত্রটি তৈরির পথে সাদাতকে বহু ঝুঁকি ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই বাস্তবিকতা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা চলচ্চিত্রকে উদ্বোধনী গালার জন্য বিশেষভাবে অর্থবহ করে তুলেছে।
এই চলচ্চিত্রটি লেখক ও অভিনেতা আনওয়ার হাশিমির আত্মজীবনীমূলক রচনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি পাঁচটি চলচ্চিত্রের তৃতীয় অংশ। হাশিমি নিজে স্ক্রিনে উপস্থিত হয়ে সাদাতের সঙ্গে কাজ করছেন, যা গল্পের গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছে।
শারবনু সাদাতও প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন; তিনি ‘নারু’ নামের এক ক্যামেরাম্যানের ভূমিকায়, যিনি কাবুল টিভির একমাত্র নারী ক্যামেরা কর্মী। নারু বিশ্বাস করেন যে আফগানিস্তানে ‘ভালো মানুষ’ নেই, এবং এই দৃষ্টিভঙ্গি চলচ্চিত্রের মূল থিমের একটি অংশ।
চলচ্চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে, নারু যখন রিপোর্টার কদরাতের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য বের হন, তখন তালেরবানের পুনরায় শাসন শুরু হওয়ার মুহূর্তের কাছাকাছি সময়ে ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে। এই মুহূর্তটি নারু ও কদরাতের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংগ্রামের মিশ্রণকে উন্মোচন করে।
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের এই নির্বাচন আফগান নারীর গল্পকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘নো গুড মেন’ দর্শকদেরকে আফগানিস্তানের জটিল বাস্তবতা ও মানবিক দিকগুলোকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপলব্ধি করার সুযোগ দেবে।



