শের-এ-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার চট্টগ্রাম রয়্যালস নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ করে পাঁচ উইকেটের পার্থক্যে জয়লাভ করে, ফলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের টেবিলের শীর্ষে পুনরায় দখল করে। এই ম্যাচটি ছিল ডhaka পর্যায়ের পুনরায় সূচনা, যা খেলোয়াড়দের গত রাতের বয়কট শেষ হওয়ার পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়। স্টেডিয়ামের দর্শকগণ দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর ভিড় জমিয়ে ম্যাচের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তুলেছিল।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটিং শুরুতে তাড়াতাড়ি গতি না পেয়ে সংগ্রাম করতে থাকে। ওপেনার সুম্য সরকার মাত্র আট বলে ১৪ রান তৈরি করে, তবে তিনি মাহেদি হাসানের হাতে দ্রুত আউট হন। তদুপরি, হোসেন ইসাখিলের ২৫ রান শেষ হয় পাওয়ারপ্লে শেষের দিকে শোরিফুল ইসলামের গলে, যা দলকে প্রারম্ভিক ক্ষতি দেয়।
মাহেদি হাসান প্রথম ওভারগুলোতে তিনটি উইকেট নেয়, তার শেষ পরিসংখ্যান হয় ৩ উইকেটের জন্য মাত্র ১২ রান, যা নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপকে অস্থির করে দেয়। জাকার আলি ২৩ রান এবং সাব্বির হোসেন ২২ রান করে সাময়িক প্রতিরোধ গড়ে তোললেও শোরিফুলের ধারাবাহিক আউটিং দলকে আরও নিচে নামিয়ে দেয়।
শোরিফুলের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উজ্জ্বল, তিনি হ্যাটট্রিকের কাছাকাছি পৌঁছে শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটের জন্য মাত্র ৯ রান দিয়ে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স রেকর্ড করেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেস শেষ পর্যন্ত ১২৬ রানে আটকে যায়, ফলে তাদের প্লে-অফের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের শুটিং শুরুতে দ্রুত সঙ্কটের মুখে পড়ে। হাসান মাহমুদ প্রথম ওভারে মাহমুদুল হাসান জয়কে ডাকেটের মাধ্যমে শূন্যে আউট করেন, এরপর হাসান নওয়াজ ১১ রান করে দ্রুতই আউট হন, ফলে স্কোর ৬৯ রানে পাঁচ উইকেটের সঙ্গে থেমে যায়।
ক্যাপ্টেন মাহেদি হাসান তখন দায়িত্ব নেন, তিনি ৩৬ বলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ৪৯ রান করেন, যা পুরো ইনিংসের অর্ধেকের বেশি অবদান রাখে। তার পাশে আসিফ আলি ৩৬ রান করে অচল না থেকে দলকে সমর্থন করেন। দুজনের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম ১৭ ওভারে ১২৮ রানে লক্ষ্য অর্জন করে, সহজে জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্লে-অফে প্রবেশের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম রয়্যালস শীর্ষে ফিরে এসে পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়।
ম্যাচের পর জানানো হয় যে, গতকাল কোনো ম্যাচ না হওয়ায় ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি নির্ধারিত শিডিউল এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এলিমিনেটর ও কোয়ালিফায়ার ১, যা মূলত ১৯ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল, এখন ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
বিপিএলের এই ধারা দেখায় যে, দলগুলো কেবল মাঠে নয়, শিডিউলিংয়ের দিকেও দ্রুত মানিয়ে নিতে সক্ষম। দর্শক ও খেলোয়াড় উভয়েরই এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কারণ এটি ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টুর্নামেন্টকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম রয়্যালসের ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকের সমন্বয়ই তাদের জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল। শোরিফুলের অগ্রণী বোলিং এবং মাহেদির স্থিতিশীল ব্যাটিং পারফরম্যান্স দলকে শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছে, আর নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটিং ব্যর্থতা তাদের প্লে-অফের স্বপ্নকে ছিন্ন করেছে।



