ইংলিশ উইমেন্স সুপার লিগের শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড নারী দল ২১ বছর বয়সী সুইডিশ ফরোয়ার্ড এলেন ওয়াঙ্গারহাইমকে হ্যামারবাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি করে স্বাক্ষর করেছে। একই সময়ে, দ্বিতীয় স্তরের বার্মিংহাম সিটি ওয়িএসএল২ দল নরকোপিং থেকে ২২ বছর বয়সী সুইডিশ আক্রমণকারী উইলমা লেইডহামারকে রেকর্ড ফি দিয়ে নিয়ে এসেছে।
ওয়াঙ্গারহাইমের চুক্তি ইউনাইটেডের জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোর তৃতীয় স্বাক্ষর, পূর্বে হ্যানা লুন্ডকভিস্ট এবং লিয়া শুল্লার দল যোগ করে ছিলেন। ক্লাবের নারী ফুটবলের পরিচালক ম্যাট জনসন ওয়াঙ্গারহাইমকে ইউরোপের সেরা তরুণ প্রতিভাদের মধ্যে এক হিসেবে উল্লেখ করে, তার গতিশীলতা, আক্রমণাত্মক স্বভাব এবং স্বাভাবিক স্কোরিং ক্ষমতা প্রশংসা করেন। তিনি যোগ করেন, ক্লাবের সবাই তার আগমনে উচ্ছ্বসিত এবং তার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
হ্যামারবাইতে ওয়াঙ্গারহাইমের সময় দলটি ২০২৩ সালে লিগ শিরোপা এবং সুইডিশ কাপ জিতেছিল, যা তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। স্বাক্ষরের পর তিনি প্রকাশ্যে জানান, বড় ইতিহাসের ক্লাবের শার্ট পরা তার জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং বিদেশে খেলতে যাওয়া তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি যুক্তি দেন, ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলা তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়নের সুযোগ দেবে।
ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড লাইন এখন শুল্লার এবং ওয়াঙ্গারহাইমের সমন্বয়ে শক্তিশালী হয়েছে, বিশেষ করে ভেটেরান স্ট্রাইকার র্যাচেল উইলিয়ামস লেস্টার সিটিতে চলে যাওয়া এবং ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গেইসের ক্লাব আমেরিকায় স্থানান্তরের পর। তবে ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এল্লা টুনের হিপ ইনজুরির কারণে তিনি অন্তত ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠে ফিরতে পারবেন না, যা ফেব্রুয়ারি মাসে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফে তার উপস্থিতি অনিশ্চিত করে। দলীয় প্রধান কোচ মার্ক স্কিনার জানিয়েছেন, টুনে সিজনের শেষের আগে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন।
বার্মিংহাম সিটি ওয়িএসএল২-তে রেকর্ড ফি দিয়ে লেইডহামারকে সই করিয়ে দিয়েছে, যা ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থানান্তর মূল্য। সূত্র অনুযায়ী, এই লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৩১৫,০০০ ইউরো (২৭৩,০০০ পাউন্ড) হিসেবে অনুমান করা হচ্ছে। লেইডহামার সুইডেনের শীর্ষ লিগে ২৭ গোল এবং ১১টি অ্যাসিস্টের রেকর্ড রাখেন, যা তার আক্রমণাত্মক দক্ষতা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশ করে। তিনি সুইডেনের যুব জাতীয় দলের সদস্যও, যা তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউনাইটেড এবং বার্মিংহাম উভয়ই এই নতুন স্বাক্ষরগুলোকে দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্ষেত্রে, শুল্লার এবং ওয়াঙ্গারহাইমের সংযোজন র্যাচেল উইলিয়ামসের প্রস্থান এবং গেইসের বিদায়ের পর শূন্যস্থান পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বার্মিংহাম সিটি লেইডহামারের যোগদানের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্তরের লিগে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়িয়ে শীর্ষে ওঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
উভয় দলই শীঘ্রই আসন্ন ম্যাচের প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করবে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নারী দল ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে মুখোমুখি হবে, যেখানে টুনের অনুপস্থিতি দলের কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। বার্মিংহাম সিটি ওয়িএসএল২-তে পরবর্তী রাউন্ডে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে, যেখানে লেইডহামারের পারফরম্যান্স দলকে পয়েন্ট সংগ্রহে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং বার্মিংহাম সিটি দুটোই নতুন বিদেশি প্রতিভা নিয়ে দলকে শক্তিশালী করেছে, যা আসন্ন মৌসুমে তাদের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন।



