22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজাতীয় নির্বাচন আগে গার্মেন্ট রপ্তানিতে প্রত্যাশিত বৃদ্ধি, বিদেশি ক্রেতা আগ্রহ বাড়ছে

জাতীয় নির্বাচন আগে গার্মেন্ট রপ্তানিতে প্রত্যাশিত বৃদ্ধি, বিদেশি ক্রেতা আগ্রহ বাড়ছে

ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখে নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের এক মাসের কম সময় বাকি থাকায় বাংলাদেশি গার্মেন্ট রপ্তানিকারকরা ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি প্রত্যাশা করছেন। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে রপ্তানি খাতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা সম্প্রতি বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে কানাডার ক্রেতারাও অর্ডার পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছেন এবং ইউরোপের বেশ কিছু বাজার থেকে ফোন ও ইমেইল পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদনকারীরা জানান, বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহের মাত্রা সাম্প্রতিক সপ্তাহে স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ড্রাগন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কিউ সোবহান রুবেল উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, স্থিতিশীল সরকার গঠন হলে রপ্তানির চাহিদা পুনরায় ত্বরান্বিত হবে।

রুবেল আরও জানান, তার কোম্পানি বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রেতাদের থেকে সোয়েটার পণ্যের জন্য বাড়তি অনুসন্ধান পাচ্ছে। একই সঙ্গে চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের রিসিপ্রোক্যাল শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছানোর ফলে অর্ডারগুলো ধীরে ধীরে বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এই পরিবর্তন গার্মেন্ট শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা রপ্তানি বাজারের সামগ্রিক চিত্রকে উন্নত করছে। প্রধান অর্থনীতিগুলোর মুদ্রা নীতি শিথিল হওয়ায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে এবং লজিস্টিক ব্যয় কমে আসছে। এই গ্লোবাল প্রবণতা বাংলাদেশি গার্মেন্ট রপ্তানির জন্য সহায়ক প্রমাণিত হচ্ছে।

রুবেল অনুমান করেন, এই বছর রপ্তানি পরিমাণ প্রায় ত্রিশ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, যা পূর্ববর্তী বছরের $২০ মিলিয়ন থেকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি নির্দেশ করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রপ্তানি আয় এই বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

গত বছরগুলোতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অশান্তি এবং বিদ্রোহের পরবর্তী প্রভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অর্ডার দেরি বা হ্রাসের পথে ছিলেন। এই অনিশ্চয়তা রপ্তানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে বহু অর্ডার স্থগিত রাখার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

নির্বাচনের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্থগিত অর্ডারগুলো ধীরে ধীরে পুনরায় সক্রিয় হচ্ছে। রপ্তানিকারকরা জানাচ্ছেন, ক্রেতারা এখন আবার বাজারে প্রবেশের ইচ্ছা প্রকাশ করছেন এবং পূর্বে স্থগিত হওয়া অর্ডারগুলো পুনরায় নিশ্চিত করা হচ্ছে।

২০২৫ সালে গার্মেন্ট রপ্তানি মাত্র ০.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে $৩৮.৮২ বিলিয়ন হয়েছে, যা পূর্ববছরের $৩৮.৪৮ বিলিয়ন থেকে সামান্য পার্থক্য। এই সূক্ষ্ম বৃদ্ধি দেশীয় অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতার প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।

সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনের ফলাফল এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের উন্নতি গার্মেন্ট রপ্তানির জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা পুনরায় উদ্ভব হলে বা আন্তর্জাতিক শুল্ক নীতি পরিবর্তন হলে রপ্তানি প্রবাহে ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই রপ্তানিকারকদের জন্য বাজারের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ এবং কৌশলগত পরিকল্পনা করা জরুরি।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments