22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনমাইক ডাউনির ইউরোপীয় চলচ্চিত্র একাডেমি চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগ, সংস্কৃতি ও সক্রিয়তা নিয়ে...

মাইক ডাউনির ইউরোপীয় চলচ্চিত্র একাডেমি চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগ, সংস্কৃতি ও সক্রিয়তা নিয়ে ভাবনা

ইউরোপীয় চলচ্চিত্র একাডেমি (ইএফএ) এর চেয়ারপদ থেকে মাইক ডাউনির পদত্যাগের খবর আজকের বিনোদন জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ২৫ বছর ধরে একাডেমির সঙ্গে যুক্ত ডাউনির শেষ পদক্ষেপে, তিনি ইউরোপীয় সিনেমার জন্য সক্রিয়তা, পুরস্কার সংস্কার এবং সংস্কৃতির প্রতিরোধমূলক ভূমিকা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন।

ডাউনির পদত্যাগের পেছনে তার দীর্ঘমেয়াদী অবদান রয়েছে। ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের সমর্থক, প্রযোজক ও লেখক হিসেবে তিনি একাডেমির কাঠামো ও পুরস্কার ক্যালেন্ডারকে পুনর্গঠন করার পরিকল্পনা করছিলেন। তার নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন ফর ফিল্মমেকারস অ্যাট রিস্ক (আইসিএফআর) গঠন করা হয়, যা রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহায়তা প্রদান করে।

৩৮তম ইউরোপীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ইইএফএ) বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতির সময় ডাউনির সঙ্গে বিভিন্ন মিডিয়ার আলোচনা হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংস্কৃতি নিজেই একটি প্রতিরোধের কাজ, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের সঞ্চার করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি একাডেমিকে সক্রিয়তার একটি প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার লক্ষ্য রাখেন।

ডাউনির কাজের মধ্যে তিনি বিশেষভাবে নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অগ্নিস্কা হল্যান্ড, ভিভিয়ান কু এবং ডকুমেন্টারিস্ট জামিল্লা ভ্যান ডের হুলস্টের সঙ্গে কাজ করেছেন। অগ্নিস্কা হল্যান্ডের “ফ্রাঞ্জ” এবং “গ্রীন বর্ডার”, ভিভিয়ান কুর “গার্লস অন ওয়্যার” এবং জামিল্লা ভ্যান ডের হুলস্টের “হোয়্যার দ্য কিডস হ্যাভ নো নেম” চলচ্চিত্রগুলোতে তিনি গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।

ডাউনির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, বর্তমানে তিনি জাপান এবং ইরান থেকে নতুন প্রকল্পের প্রস্তুতিতে আছেন। এই প্রকল্পগুলোতে তিনি ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের বহুমুখিতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছেন। তিনি আশাবাদী যে, এই নতুন চলচ্চিত্রগুলো ইউরোপীয় দর্শকদের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সংযোগ স্থাপন করবে।

ডাউনির কাজের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন ফর ফিল্মমেকারস অ্যাট রিস্কের মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সমর্থন। তিনি এই সংস্থার মাধ্যমে শত শত ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের পর্যালোচনা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। এই কাজের ফলে তিনি চলচ্চিত্র শিল্পের ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ডাউনির মতে, চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগের পরেও তিনি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং নতুন চলচ্চিত্র প্রকল্পে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তিনি বলেন, তিনি আর কোনো “মিসার” নন, বরং সবসময় নতুন কিছু করার জন্য প্রস্তুত। তার মতে, ইউরোপীয় সিনেমা এখন আগের চেয়ে বেশি শোনার প্রয়োজন, কারণ বিশ্বায়নের যুগে স্থানীয় গল্পগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে হবে।

ডাউনির পদত্যাগের পর ইএফএ নতুন নেতৃত্বের সন্ধানে রয়েছে। তবে তার ছেড়ে যাওয়া সময়ে তিনি যে সংস্কার ও সক্রিয়তার দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলেছেন, তা ভবিষ্যৎ চেয়ারপদধারীর জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি যে ভিত্তি স্থাপন করেছেন, তা শিল্পের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব ফেলবে।

সংক্ষেপে, মাইক ডাউনির ২৫ বছরের দীর্ঘ সেবা শেষে চেয়ারপদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তার সক্রিয়তা, নারী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সঙ্গে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সহায়তা তার অবদানের মূল দিক। ভবিষ্যতে তিনি নতুন প্রকল্পে কাজ চালিয়ে যাবেন, যা ইউরোপীয় সিনেমার বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments