20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা হাজেরা সুলতানার মৃত্যু, ওয়ার্কার্স পার্টি শোক প্রকাশ

সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা হাজেরা সুলতানার মৃত্যু, ওয়ার্কার্স পার্টি শোক প্রকাশ

সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা হাজেরা সুলতানা, ৭৬ বছর বয়সে, ঢাকা মোহাম্মদপুরের সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতেই নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যু সম্পর্কে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন জানিয়েছেন। হাজারো সমর্থক ও সহকর্মী এই সংবাদে শোক প্রকাশ করেছেন।

হাজেরা সুলতানা একমাত্র মেয়ে রানা সুলতানা এবং জামাতা মনিরুজ্জামানকে রেখে গেছেন। তিনি ৭৬ বছর বয়সী ছিলেন এবং তার পরিবারে কেবল এই দুইজন বেঁচে আছেন। রানা সুলতানা বর্তমানে কানাডিতে বসবাস করছেন।

মৃত্যুর পর তার দেহ বেসরকারি একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। রানা সুলতানা শনিবার দেশে ফিরে টাঙ্গাইলের গ্রাম বাড়িতে দাফন করার প্রস্তুতি নেবেন। দাফনকর্ম শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

হাজেরা সুলতানা ১৯৫০ সালে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ি ইউনিয়নের ছাতিহাটী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি স্থানীয় কুমুদিনী কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করে সরকারি সা’দত কলেজে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

১৯৭০ সালে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি একাত্তরের মার্চে টাঙ্গাইলের পিটিআই মাঠে পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানোর নেতৃত্ব দেন। এই কাজের পর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের উদ্যোগে টাঙ্গাইলের যমুনাচর এলাকায় আব্দুল হালিম (ইকবাল) নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করা হয়। হাজেরা সুলতানা সেখানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি যুদ্ধকালে বহু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনে অংশগ্রহণের জন্য স্বীকৃত হন।

স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি বাংলাদেশ নারীমুক্তি সংসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির মুখপত্র “নতুন কথা”র সম্পাদকীয় দায়িত্বে ছিলেন। এই পদগুলোতে তিনি নারী অধিকার ও শ্রমিক স্বার্থের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুর আহমেদ বকুল তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের জন্য একটি যৌথ বিবৃতি জারি করেন। বিবৃতিতে তারা প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন এবং তার অবদানকে স্মরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলও তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা প্রকাশ করেছে। সব দলই তার মুক্তিযুদ্ধের অবদান ও রাজনৈতিক কর্মকে সম্মান জানিয়েছে। এই সমবেদনা দেশের রাজনৈতিক ঐক্যের একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হাজেরা সুলতানার মৃত্যু ওয়ার্কার্স পার্টির জন্য একটি বড় ক্ষতি, বিশেষ করে টাঙ্গাইল অঞ্চলে তার প্রভাবশালী উপস্থিতি ছিল। তার অনুপস্থিতিতে পার্টির স্থানীয় সংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। এটি আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে পার্টির কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

দলীয় কর্মীরা রোববার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের টোপখানা রোডে অবস্থিত পার্টি অফিসে তার কফিন গ্রহণের জন্য একত্রিত হবেন। সেখানে উপস্থিত নেতারা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং তার জীবন ও কর্মের স্মরণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে।

হাজেরা সুলতানার রাজনৈতিক যাত্রা ১৯৭০-এর দশকের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম, নারী মুক্তি এবং শ্রমিক অধিকার পর্যন্ত বিস্তৃত। তার জীবনকথা তরুণ রাজনীতিবিদদের জন্য একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।

তার মৃত্যু পরবর্তী সময়ে পার্টি তার স্মৃতিকে সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্পে তার নাম ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাজেরা সুলতানার পরিবার ও সমর্থকরা তার শেষ যাত্রা সহজে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করছেন। পরিবার জানিয়েছে, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে বিশ্রাম নিতে পেরেছেন এবং তার আত্মা চিরশান্তিতে থাকবে।

সাবেক এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার অবদান দেশের ইতিহাসে অম্লান থাকবে, এবং তার স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments