18 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিখুলনায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

খুলনায় ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

খুলনা জেলা শিলপকলা একাডেমি মিলনায়তনে শুক্রবার ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ডিজিটাল সেবার টেকসই উন্নয়নের জন্য নাগরিক আস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কর্মশালায় খুলনা বিভাগের চারটি জেলার নির্বাচিত উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব উল্লেখ করেন, নাগরিক সেবা প্রদানকালে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তথ্যের অপব্যবহার বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কোনো প্রচেষ্টা নাগরিকের বিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করবে এবং সেবার গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পাবে।

সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, সরকারি সেবার জন্য মানুষকে দপ্তরে ঘুরে বেড়াতে না হয় তা নিশ্চিত করতে সব সেবা একক প্ল্যাটফর্মে সংহত করা হচ্ছে। এই ‘ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ সময়, খরচ ও শ্রমঘণ্টা সাশ্রয় করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানে ১২টি মন্ত্রণালয় এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রায় এক হাজার সরকারি সেবা এখানে সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিজিটাল রূপান্তরের ভিত্তি হিসেবে সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তিনি জোর দিয়ে বলেন। এসব আইন নাগরিক, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলবে এবং তথ্যের অপব্যবহার রোধে কার্যকর কাঠামো প্রদান করবে।

গণভোট ও সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় ফয়েজ আহমদ তৈয়্যেব উল্লেখ করেন, ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বতন্ত্র বিচার বিভাগ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের ঝুঁকি পুনরায় উদ্ভব হতে পারে। তাই বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত এবং উদ্যোক্তা‑বান্ধব বাংলাদেশ গড়তে সংস্কারকে সমর্থন করা জরুরি।

কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক এ. এস. এম. জামশেদ খোন্দকার। তিনি জানান, ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখবে। এছাড়া, এ.টি.আই. (আধুনিক প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট) এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আব্দুর রফিক উল্লেখ করেন, সরকার উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সেবা প্রদানের মানোন্নয়নে সবধরনের সহায়তা প্রদান করবে।

এই কর্মশালা ডিজিটাল সেবা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতার সংযোগ স্থাপন করে, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি তথ্য সুরক্ষার গুরুত্বকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, স্বচ্ছ ও নিরাপদ সেবা প্রদান করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, খুলনায় অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা সরকারী ডিজিটাল রূপান্তর পরিকল্পনা, তথ্য সুরক্ষা আইন এবং নাগরিক‑কেন্দ্রিক সেবা মডেলকে বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে একক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত সেবা ও সুনির্দিষ্ট ডেটা সুরক্ষা কাঠামো দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments