মস্কোর গ্র্যান্ড ক্রেমলিনে ১৫ জানুয়ারি নতুন বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণের অনুষ্ঠান শেষে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক পরিবেশের অবনতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্ব নিরাপত্তা আগের তুলনায় আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে এবং এই পরিবর্তনকে অস্বীকার করা কঠিন।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন রায়দূতদের স্বীকৃতি প্রদান, তবে পুতিনের ভাষণ আন্তর্জাতিক মঞ্চে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপী সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং নতুন সংকটের উদ্ভবের দিকে ইঙ্গিত করেন।
পুতিনের বক্তব্যে বিশ্বে চলমান পুরনো যুদ্ধগুলো, যেমন ইউক্রেনের সংঘাত, আরও তীব্রতর হয়ে উঠছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, তিনি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কিছু অঞ্চলকে উল্লেখ করেন, যদিও নির্দিষ্ট দেশ বা ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি।
বক্তব্যের সময় পুতিন ভেনেজুয়েলা বা ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এই বিষয়গুলোতে নীরবতা বজায় রাখার পেছনে কৌশলগত কারণ থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি বা গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত বিতর্কের ওপর পুতিন সরাসরি কোনো মন্তব্য থেকে বিরত ছিলেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক নীতি নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, শক্তিশালী দেশগুলো প্রায়ই অন্য দেশের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয় এবং একতরফা সংলাপকে স্বাভাবিক মনে করে।
পুতিনের মতে, এমন একতরফা মনোলগের পরিবর্তে বহুমুখী সংলাপই আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানের মূল চাবিকাঠি। তিনি রাশিয়ার বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, ইউরোপে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার জন্য রাশিয়ার প্রস্তাবগুলোকে আলোচনার বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন।
রাশিয়া সবসময়ই একটি ‘মাল্টিপোলার’ বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করেছে, এ কথাটি পুতিনের ভাষণে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। তিনি আশাবাদী যে আন্তর্জাতিক সমাজ রাশিয়ার এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার পথ খুলে যাবে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক কিউবান মিসাইল সংকটের সময়ের তুলনায় সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ে পৌঁছেছে। পুতিনের এই সতর্কতা রাশিয়ার জন্য একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা যায়, যা বিশ্বকে বহুমুখী নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে ধাবিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, পুতিনের এই বক্তব্য রাশিয়ার কূটনৈতিক কৌশলে একটি নতুন মোড় নির্দেশ করতে পারে, যেখানে বহুপাক্ষিক সংলাপ এবং নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, পুতিনের ক্রেমলিন ভাষণ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার অবনতির প্রতি রাশিয়ার উদ্বেগকে প্রকাশ করেছে এবং বহুমুখী বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য রাশিয়ার নীতি ও প্রস্তাবকে জোর দিয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক মঞ্চে কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, তা আগামী মাসের কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।



