ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) আজ ঢাকার পুরানা পল্টানে অবস্থিত আইএবি অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেছে যে, দলটি আসন্ন ১৩তম পার্লামেন্টের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং জামাত‑নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তার পূর্বের সংযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলটি নিজস্ব প্রার্থী তালিকা উপস্থাপন করে ভোটারদের সামনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথের সূচনা নির্দেশ করে।
সম্মেলনের মুখপাত্র ও যৌথ সচিব সাধারণ গাজি আতাউর রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আইএবি নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে মোট ২৭০টি নামের প্রস্তাব জমা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬৮টি এখন পর্যন্ত বৈধ বলে স্বীকৃত হয়েছে। নামের প্রস্তাবের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর দলটি দ্রুতই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে চায়, যাতে প্রার্থীরা সময়মতো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারে।
আতাউর আরও উল্লেখ করেন যে, প্রার্থীদেরকে তাদের নাম প্রত্যাহার না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দৃঢ় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তারা যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণে মনোনিবেশ করবে। এই নির্দেশনা দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের কাছে একতাবদ্ধ বার্তা পৌঁছানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো অনিচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি না ঘটে।
আইএবির এই স্বতন্ত্র পদক্ষেপের ফলে জামাত‑নেতৃত্বাধীন জোটের ভবিষ্যৎ গঠন পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদিও এখন পর্যন্ত জোটের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। দলটির স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্যান্য ছোট দলগুলোর জন্যও একটি উদাহরণ স্থাপন করতে পারে, যা রাজনৈতিক বহুমুখিতা বাড়িয়ে তুলবে এবং ভোটারদের কাছে বিকল্পের পরিসর বিস্তৃত করবে।
পরবর্তী সময়ে আইএবি নির্বাচনী প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেবে এবং নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ভ্রমণ করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে। ২০২৬ সালের শেষের দিকে নির্ধারিত ১৩তম পার্লামেন্টের নির্বাচন পর্যন্ত দলটি প্রচারণা, নীতি নির্ধারণ এবং জনমত সংগ্রহে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে, যাতে দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে তার অবস্থান শক্তিশালী করা যায়।



