22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধধানমন্ডি এলাকায় হাফপ্যান্ট পরা কিশোরের ওপর আক্রমণ, দুই যুবক গ্রেফতার

ধানমন্ডি এলাকায় হাফপ্যান্ট পরা কিশোরের ওপর আক্রমণ, দুই যুবক গ্রেফতার

ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য ছাত্রছাত্রীরা জার্সি ও হাফপ্যান্ট পরে মাঠে অনুশীলন করছিল। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর, অনুশীলন শেষ করে কোচিং সেন্টারে যাওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭ টার কাছাকাছি হঠাৎ দু’জন অপরিচিত যুবকের আক্রমণের শিকার হন।

প্র্যাকটিসের সময়সূচি ছিল বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত, আর কোচিং ক্লাস বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলত। কিশোরটি অনুশীলন শেষে সরাসরি হাফপ্যান্ট ও জার্সি পরিধান করে কোচিং সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাকে দুইজন ২২‑২৩ বছর বয়সী যুবক থামিয়ে প্রশ্ন করে, “হাফপ্যান্ট কেন পরছো, পাজামা নেই?” এরপর তারা গালি-গালাজের সঙ্গে শারীরিক আক্রমণ চালায়।

আক্রমণের ফলে কিশোরের মাথার পেছনে চাঁটি মারা হয় এবং শারীরিক ও মানসিক আঘাত পায়। তার মা ঘটনাটি ফেসবুকে তুলে ধরে পরিবারকে উদ্বেগে ফেলে। পরে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তার সন্তান ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে এবং পরিবারটি ধানমন্ডিতে বসবাস করে। মা নিজে একসময় সাংবাদিক ছিলেন, স্বামী ব্যবসায়ী, এবং তিনটি সন্তান রয়েছে; কিশোরটি তার দ্বিতীয় সন্তান।

মা জানান, হাফপ্যান্ট পরার কারণে তার ছেলেকে আক্রমণ করা হয়েছে, যা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে এখন মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং উদ্বেগের শিকার। ঘটনাটির পর পরিবারটি স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করে এবং তদন্তের দাবি জানায়।

পুলিশের মতে, আক্রমণের সময় কিশোরের সঙ্গে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে দুই সন্দেহভাজনকে দ্রুত সনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের বয়স ২২ ও ২৩ বছর, এবং তারা স্থানীয়ই বলে জানা যায়। তারা হেফাজতে নিয়ে গিয়ে হালনাগাদ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হিংসা, শারীরিক আঘাত এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পুলিশ ফৌজদারি দফতরের মাধ্যমে মামলার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে এবং প্রাথমিক শোনানির তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। মামলাটি স্থানীয় আদালতে দাখিলের পর পরবর্তী শোনানি হবে।

স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানী মনিরুল আই খান উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু গোষ্ঠী তাদের মতামত জোরপূর্বক আরোপের চেষ্টা করে, যা সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শারীরিক শাস্তি ছাড়া সমাধান খোঁজা জরুরি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদেরও এই ঘটনার পর পুনরায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। স্কুলের শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা দল বলেছে, ভবিষ্যতে অনুশীলন ও ক্লাসের সময়সূচি সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা সামাজিক মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে তরুণদের পোশাকের ওপর ভিত্তি করে হিংসা না ঘটার জন্য সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানায়।

সামগ্রিকভাবে, কিশোরের উপর আক্রমণ একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। সমাজের সকল স্তরে নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য এই ধরনের ঘটনা রোধে যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments