যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনবিরোধী নীতি চালু করার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রোয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি দ্বিমুখী। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ট্রাম্পের সমর্থকরা এখন অভিবাসন নীতি নিয়ে একে অপরের সঙ্গে মতবিরোধে লিপ্ত, যা তার প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থনের হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত।
এই জরিপে অংশগ্রহণকারী রিপাবলিকানদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ বলেছে, গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের কঠোরতা বজায় রাখতে হবে, যদিও এতে আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে ৩৯ শতাংশের মত, গ্রেপ্তার কম হলেও মানুষের ক্ষতি রোধ করা উচিত। ডেমোক্র্যাটদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় একমত; ৯৬ শতাংশই বলেছে, বলপ্রয়োগ কমিয়ে আঘাত এড়ানো প্রয়োজন।
একই সপ্তাহে ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করার সময় দুইজন পথচারীর হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এক কর্মকর্তা গুলি চালিয়ে ওই ব্যক্তির পা গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দুই পথচারী গুলির দিকে হাত বাড়িয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি আহত হন।
এরপর রাতে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির সমর্থক ও প্রতিবাদকারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে পাথর ও বরফ ছুড়ে মারতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গ্যাস ব্যবহার করে, যা প্রতিবাদকারীদের মধ্যে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পর, ট্রাম্প মিনেসোটায় সামরিক বাহিনী মোতায়েনের হুমকি দেন এবং প্রয়োজনে “ইনসারেকশন অ্যাক্ট” প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।
অভিবাসন বিষয়টি ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সর্ববৃহৎ বহিষ্কার অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে অভিবাসন নীতি নিয়ে তার জনপ্রিয়তা ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল, তবে সাম্প্রতিক জরিপে তা ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা তার বর্তমান মেয়াদে সর্বনিম্ন স্তর। একই সময়ে, তার সামগ্রিক অনুমোদন হার এক পয়েন্ট কমে ৪১ শতাংশে নেমে এসেছে।
এই পতনের পরেও, অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্পের সমর্থন তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের মেয়াদের অধিকাংশ সময়ের চেয়ে বেশি রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, অভিবাসন বিষয়ের ওপর ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান তার ভিত্তিক ভোটারদের মধ্যে এখনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রাখে, যদিও সামগ্রিক জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছে।
ভবিষ্যতে, রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে এই বিভাজন কিভাবে রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে। যদি কঠোর নীতি সমর্থকদের সংখ্যা কমে যায়, তবে পার্টি অভ্যন্তরে নরম দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের চাপ বাড়তে পারে, যা ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ প্রার্থী হিসেবে অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, কঠোরতা বজায় রাখতে চাওয়া গোষ্ঠী তার নীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরও শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
অবশেষে, অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হবে।



