ঢাকা শহরের উত্তরায় অবস্থিত ১১ নম্বর সেক্টরের সাততলা আবাসিক ভবনে আজ সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার ফলে দুই পরিবারের ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টিম পৌঁছে জরুরি ত্রাণ কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ কর্মকর্তা তালহা বিন জসিমের মতে, আগুনটি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় শুরু হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বাড়ির ভিতরে প্রচুর আসবাবপত্রের উপস্থিতি আগুনের গতি বাড়িয়ে দেয়।
আগুনের প্রাথমিক তীব্রতায় ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়, আর বাকি রোগীদের দ্রুত কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু পরে পুলিশ উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার শাহরিয়ার আলী নিশ্চিত করেন।
বাকি আহতদের নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ফায়ার সার্ভিস জানায়, পুরো ভবনের তলা তিনটি পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব বিস্তৃত হয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত কারণের জন্য তদন্ত চলমান।
দুপুর ৮টা ২৫ মিনিটে দুইটি ফায়ার ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সম্পূর্ণ নিভে যাওয়া পর্যন্ত কাজ চলতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় লাগে। এই সময়ে আশেপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই দুঃখজনক ঘটনার প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই পরিবারে ছয়জনের মৃত্যু এবং বহু আহতের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে দুঃখিত।
অধিকন্তু, তিনি মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, তাদের প্রতি সহানুভূতির কথা প্রকাশ করেন। তিনি ঈশ্বরকে প্রার্থনা করেন, মৃতদের আত্মা শান্তি পায় এবং তাদের পরিবারকে ধৈর্যের শক্তি প্রদান করে।
আহতদের জন্যও তিনি বিশেষ দোয়া করেন, দ্রুত সুস্থতা ও আরোগ্য কামনা করেন। তার এই বক্তব্যে ধর্মীয় অনুরোধের পাশাপাশি মানবিক সহানুভূতি প্রকাশ পায়।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী শোক প্রকাশের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ ঘনত্বের আবাসিক এলাকায় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও অগ্নি প্রতিরোধের ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি তীব্র হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান জানান, ভবনের বৈদ্যুতিক সিস্টেমে ত্রুটি থাকতে পারে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত চলমান থাকায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। এই দুঃখজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



