19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প মিনেসোটা বিক্ষোভে সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি জানান

ট্রাম্প মিনেসোটা বিক্ষোভে সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি জানান

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে চলমান বিশাল প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের ইঙ্গিত দেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে গত সপ্তাহে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্ট রেনে গুডের গুলিতে নিহত হওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলান নাগরিকের গুলিবিদ্ধ হওয়া অন্তর্ভুক্ত।

এক সপ্তাহ আগে রেনে গুড, যিনি একটি গাড়িতে আইসিই কর্মী ছিলেন, গুলিতে নিহত হন। গুডের মৃত্যু পরেই মিনিয়াপোলিসের বাসিন্দা ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে, এবং গুডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ অন্যান্য শহরেও ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের হুমকির কয়েক ঘণ্টা আগে, একটি ভেনেজুয়েলান নাগরিককে আইসিই এজেন্টরা গুলিবিদ্ধ করেন। সরকার জানায়, এজেন্টরা যখন ওই ব্যক্তির গাড়ি থামাতে চেয়েছিল, তখন তিনি পালানোর চেষ্টা করেন এবং গুলি তার পায়ে লেগে যায়।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখে জানান, “যদি মিনেসোটার দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকরা আইন মেনে না চলে এবং আইসিই-র দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ বন্ধ না করে, তবে আমি ইনসারেকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করব।” এই মন্তব্যে তিনি রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা স্পষ্ট করে তুলেছেন।

গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্প মিনেসোটা ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রতি হুমকি-ধামকি চালিয়ে আসছেন। তিনি কিছু সোমালি বংশোদ্ভূত নাগরিককে “আবর্জনা” বলে উল্লেখ করে, তাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি করেন।

প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পর ফেডারেল সরকার প্রায় তিন হাজার কর্মকর্তা মিনিয়াপোলিসে পাঠায়। এই কর্মকর্তারা শহরের তুষারময় রাস্তায় সামরিক শৈলীর পোশাক, মুখ ঢাকার মাস্ক এবং অস্ত্রসহ উপস্থিত হয়।

প্রতিবাদকারীরা শিস, টাম্বুরিন এবং অন্যান্য সঙ্গীত যন্ত্র ব্যবহার করে তাদের বিরোধ প্রকাশ করে। ফেডারেল কর্মকর্তারা সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে প্রতিবাদকে দমন করার চেষ্টা করে।

বহু প্রতিবাদকারী শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ছড়িয়ে পড়লেও, একটি ছোট দল একটি গাড়ি ভাঙচুর করে এবং তাতে লাল রঙের গ্রাফিতিতে “ক্রিস্টি নোমকে ফাঁসিতে ঝোলাও” লিখে। এই কাজটি ফেডারেল কর্মকর্তাদের প্রতি তীব্র অসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী নোম আইসিই-র কার্যক্রম তদারকি করছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ট্রাম্পের সেনাবাহিনী মোতায়েনের হুমকি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে এটি ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আইনি সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়াবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে।

অধিকন্তু, এই ঘটনার ফলে মিনিয়াপোলিসে আইন প্রয়োগের পদ্ধতি, অভিবাসন নীতি এবং ফেডারেল কর্মকর্তাদের ক্ষমতা নিয়ে জাতীয় স্তরে বিতর্ক তীব্র হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

প্রতিবাদকারীদের দাবি ও ফেডারেল হস্তক্ষেপের মধ্যে সমতা রক্ষা করা, এবং আইসিই কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে ট্রাম্পের হুমকির বাস্তবায়ন বা না হওয়া, এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল, মিনেসোটা ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments