বরিশালের ছয়টি নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত‑ই‑ইসলাম একসঙ্গে বারোজন প্রার্থী দাখিল করেছে। উভয় দলের প্রার্থীরা পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রাক্তন সংসদ সদস্যের মধ্যে থেকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম নিবন্ধন করেছে। আর্থিক ঘোষণাপত্রে দেখা যায়, এদের মধ্যে ছয়জনের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার উপরে, আর এক প্রার্থী কোনো আয় উল্লেখ করেননি।
বরিশাল‑১ (গৌরনদী‑আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী হলেন জহির উদ্দিন স্বপন, যিনি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পদে কর্মরত।
বরিশাল‑২ (উজিরপুর‑বানারীপাড়া) আসনে দলীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ নামের প্রার্থী তালিকাভুক্ত। তিনি নিজের পেশা রাজনীতি ও সমাজসেবা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কোনো আয় উল্লেখ করেননি; তবে তার স্ত্রীর পেশা ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বরিশাল‑৩ (বাবুগঞ্জ‑মুলাদী) আসনে কেন্দ্রীয় ভাইস‑চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন প্রার্থী। তার আর্থিক ঘোষণায় বার্ষিক আয় ৭০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে, যা তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বরিশাল‑৪ (হিজলা‑মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান প্রার্থী হিসেবে নাম নিবন্ধন করেছেন।
বরিশাল‑৫ (সদর‑সিটি) আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সোরেয়ার প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত।
বরিশাল‑৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান প্রার্থী হিসেবে দাখিল হয়েছে।
জামায়াতের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে, বরিশাল‑১ আসনে জেলা জামায়াতের মজলিশের শুরার সদস্য মাওলানা কামরুল ইসলাম সমর্থন জানিয়েছেন।
বরিশাল‑২ আসনে জেলা নায়েবের আমির মাস্টার আবদুল মান্নান প্রার্থীকে সমর্থন প্রদান করেছেন।
বরিশাল‑৩ আসনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) জামায়াতের সমর্থন পেয়েছেন।
বরিশাল‑৪ আসনে জেলা জামায়াতের আমির, অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল জব্বার সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
বরিশাল‑৫ আসনে কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াজ্জাম হোসেন জামায়াতের সমর্থন পেয়েছেন।
বরিশাল‑৬ আসনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুন্নবী প্রার্থীর সমর্থন জানিয়েছেন।
আর্থিক দিক থেকে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বারোজনের মধ্যে ছয়জনের বার্ষিক আয় এক কোটি টাকার বেশি, ফলে তারা ক্রোড়পতি হিসেবে চিহ্নিত। সর্বোচ্চ আয়কারী জয়নুল আবেদীন ছাড়াও, অন্যান্য ক্রোড়পতি প্রার্থীদের আয়ও উল্লেখযোগ্য, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, সরফুদ্দিন আহমেদের মতো প্রার্থী তার পেশা রাজনীতি ও সমাজসেবা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং কোনো আয় উল্লেখ না করলেও, তার স্ত্রীর ব্যবসায়িক পেশা তালিকায় আছে, যা আর্থিক স্বচ্ছতার একটি দিক হিসেবে বিবেচিত।
এই প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থার প্রকাশ ভোটারদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কারণ সম্পদ ও আয়ের পার্থক্য নির্বাচনী প্রচার ও ভোটার ধারণায় প্রভাব ফেলতে পারে। উভয় দলই এই তালিকাকে ভিত্তি করে তাদের প্রচার কৌশল গঠন করবে বলে আশা করা যায়।
নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের নথিপত্র যাচাই করে শেষ পর্যায়ে অনুমোদন প্রদান করবে, এবং ভোটাররা আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবে।



