শুক্রবার সকাল প্রায় আটটায় গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত পিয়ার আলী কলেজের পুকুরে মাছ ধরার জালে অপ্রত্যাশিতভাবে এক ব্যাগ উঠে আসে। ব্যাগের ভিতরে স্কচটেপে মোড়ানো সাত থেকে আটটি ককটেল‑বোমা পাওয়া যায়। ঘটনাটি স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের নজরে আসে, যিনি তৎকালীন সময়ে তিনজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে পুকুরটি ইজারা নিয়ে জাল টেনে মাছ ধরছিলেন।
পুকুরটি মাওনা বাজার এলাকার কাছাকাছি অবস্থিত এবং স্থানীয় মাছ ধরা কার্যক্রমের জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। জাহাঙ্গীর জানান, তারা পুকুরের জাল টেনে মাছ ধরার জন্য সকালবেলা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কাজের মাঝখানে ব্যাগটি জালের সঙ্গে আটকে উঠে আসে। ব্যাগটি খুলে দেখার সময় স্কচটেপে মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু দেখা যায়, যা দেখে তারা সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পুলিশকে জানায়।
পুলিশের শ্রীপুর থানা থেকে ওসি মোহাম্মদ নাসির আহমদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন। তিনি জানান, উদ্ধার করা ব্যাগে সাত থেকে আটটি ককটেল‑বোমা রয়েছে, যেগুলি স্কচটেপে সিল করা ছিল। বোমা নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য বোমা নিষ্পত্তি ইউনিটকে ডাকা হয়।
পুলিশের নির্দেশে পোড়াবাড়ি র্যাব ক্যাম্পের সদস্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশনের ৮ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের কয়েকজন সৈন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পাশাপাশি বোমা নিষ্পত্তি ইউনিটের বিশেষজ্ঞ দলও তৎকালীন সময়ে পুকুরের কাছে পৌঁছে বোমার অবস্থা পরীক্ষা করেন।
বোমা নিষ্পত্তি ইউনিটের সদস্যরা ব্যাগের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত করেন যে বোমাগুলি সক্রিয় নয়, তবে সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওসি নাসির আহমদ উল্লেখ করেন, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্ত চলছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালু রয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, পুকুরে মাছ ব্যবসায়ী ও অন্যান্য নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন ধরনের অবৈধ বস্তু পুকুরে প্রবেশ না করতে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হবে।
এই ঘটনার পর, শ্রীপুর থানা ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা একত্রে কাজ করে পুকুরের আশেপাশের এলাকায় সম্ভাব্য হুমকি সনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের জন্য জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
বিবেচনা করা হচ্ছে যে, এই ধরনের বোমা কীভাবে পুকুরে পৌঁছেছে এবং এর পেছনে কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য আছে কিনা। তদন্তকারী দল স্থানীয় বাজার ও মাছ ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য সংগ্রহ করছে।
অবশেষে, স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো অস্বাভাবিক বস্তু বা সন্দেহজনক জিনিস দেখলে তা অবিলম্বে পুলিশে জানাতে হবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাবে।



