বিএসসি সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মধ্যে গত এক বছরে পিএইচডি, এমফিল অথবা এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করা কর্মকর্তাদের গবেষণার মূল বিষয়বস্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্দেশটি বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি মাউশির প্রশিক্ষণ শাখার সহকারী পরিচালক-৩, সামিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এবং এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গবেষণার বিষয়, লক্ষ্য, প্রধান ফলাফল এবং ব্যবহারিক গুরুত্ব সর্বোচ্চ দশটি পাওয়ার পয়েন্ট স্লাইডে সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে হবে। এই স্লাইডগুলোতে তথ্যের সঠিকতা ও সংক্ষিপ্ততা নিশ্চিত করা হবে, যাতে নীতিনির্ধারকরা দ্রুত মূল দিকগুলো বুঝতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো কর্মকর্তা জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করে থাকেন, তবে তিনি স্লাইডে গবেষণার উদ্দেশ্য, পদ্ধতি, প্রাপ্ত ফলাফল এবং কীভাবে তা স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা যায় তা সংক্ষেপে দেখাতে পারবেন। এধরনের ব্যবহারিক উদাহরণ নীতিমালা গঠনে সরাসরি সহায়তা করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গবেষণার সংক্ষিপ্তসার এবং স্লাইডের সফট কপি নিকোশ ফন্টে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শাখায় পাঠাতে হবে। জমা দেওয়ার শেষ তারিখ রবিবার, ১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। সময়সীমা মেনে না চললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
প্রেজেন্টেশনের নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি; এগুলো পরে কর্মকর্তাদের জানানো হবে। তবে এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মকর্তাদের গবেষণার ফলাফলকে নীতি-নির্ধারণের পর্যায়ে তুলে ধরা, যাতে গবেষণার জ্ঞান সরাসরি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়।
শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তার ফলাফল এবং ব্যবহারিক দিকগুলোকে নীতিনির্ধারকদের সামনে উপস্থাপন করা হলে, ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গবেষণার ফলাফলকে বাস্তবিক পদক্ষেপে রূপান্তর করা সহজ হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সকল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাদের গবেষণার সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। সফট কপিতে নিকোশ ফন্ট ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, যা তথ্যের সামঞ্জস্য বজায় রাখে এবং পর্যালোচনার সুবিধা বাড়ায়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী কর্মকর্তাদের গবেষণাকে নীতি-প্রণয়নের প্রাসঙ্গিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ফলে, গবেষণার ফলাফল সরাসরি শিক্ষার কাঠামো, পাঠ্যক্রম এবং শিক্ষণ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে।
অবশেষে, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: আপনার গবেষণার মূল দিকগুলোকে সংক্ষিপ্ত, স্পষ্ট এবং প্রয়োগযোগ্য রূপে উপস্থাপন করুন, যাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তা দ্রুত কাজে লাগানো যায়। আপনার গবেষণার ব্যবহারিক দিকগুলো কীভাবে শিক্ষার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, তা নিয়ে ভাবা ভবিষ্যতের শিক্ষানীতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



