22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউনের পাঁচ বছর কারাদণ্ড

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইউন সুক-ইয়োলকে ২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতার অপব্যবহার, ন্যায়বিচার বাধা এবং নথি জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায় সেপটেম্বর ২০২৪-এ তার সামরিক আইন ঘোষণার পরপরই শূন্য সময়ে গৃহীত চারটি মামলায় প্রথমে প্রকাশিত হয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে ইউনের একপাক্ষিক সামরিক আইন ঘোষণার ফলে দেশব্যাপী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্যরা দ্রুত জাতীয় সংসদে সমাবেশ করে ওই ঘোষণাকে বাতিল করার চেষ্টা করে, আর রাস্তায় প্রতিবাদকারীরা সরকারের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন যে, ইউনের এই পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তিনি অপরাধ স্বীকারে কোনো অনুতাপ প্রকাশ করেননি। এই মন্তব্য রায়ের শাস্তি নির্ধারণে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

প্রথম রায়ের পরবর্তী মামলাগুলোর দিকনির্দেশনা কী হবে তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই রায় থেকে দেখা যায় যে আদালত ইউনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

ইউনের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন এবং সর্বোচ্চ স্তরের অপরাধ—বিদ্রোহের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত। বিদ্রোহের জন্য প্রসিকিউশন দল মৃত্যুদণ্ডের দাবী করে, তবে সেই রায়ের প্রত্যাশা ফেব্রুয়ারি মাসে।

রায়ের দিন আদালতের সামনে প্রায় একশো জন সমর্থক উপস্থিত ছিলেন, যারা বড় স্ক্রিনে সরাসরি লাইভস্ট্রিম দেখছিলেন। সমর্থকরা লাল রঙের পতাকা ও ব্যানার তুলে ধরেন, যার ওপর “ইউন, আবার! কোরিয়াকে মহান করুন” লেখা ছিল।

কিছু সমর্থক রায় শোনার সময় বিচারকের প্রতি চিৎকার করে বিরোধিতা প্রকাশ করেন, অন্যদিকে বেশিরভাগই নীরবভাবে রায়ের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছিলেন।

বিচারক রায়ে ইউনকে রাষ্ট্রপতি গার্ড ব্যবহার করে তার গ্রেফতার রোধ করা, সামরিক আইন ঘোষণার আগে পুরো ক্যাবিনেটের সঙ্গে পরামর্শ না করা এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত বলে ভান করে একটি নথি তৈরি করে পরে তা নষ্ট করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেন।

বিচারক আরও বলেন, রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন রাষ্ট্রপতি এসব নীতিকে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

প্রসিকিউশন দল ইউনের জন্য দশ বছরের কারাদণ্ডের দাবি করে, তবে আদালত পাঁচ বছর নির্ধারণ করেছে। রায়ের উভয় পক্ষকে সাত দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

ইউন নিজে এই অভিযোগগুলোকে অস্বীকার করে, গ্রেফতার আদেশকে অবৈধ বলে দাবি করেন এবং জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করার সময় ক্যাবিনেটের সব সদস্যের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলে যুক্তি দেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী সংস্থাগুলি কোনো বৈধ ভিত্তি ছাড়া কাজ করেছে।

এই রায়ের ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। ইউনের সমর্থক গোষ্ঠী ও বিরোধী দল উভয়ই রায়ের পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দেবে।

ফেব্রুয়ারিতে বিদ্রোহের রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ইউনের ওপর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষের আপিলের অপেক্ষা চলমান, এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments