গাজীপুরের কালীগঞ্জে টঙ্গি‑ভৈরব রেলপথের নলছাটা এলাকায় শুক্রবার সকালবেলায় এক ট্রেনের ধাক্কায় ৬৫ বছর বয়সী ইংরেজি শিক্ষক কমল ক্রিস্টোফার রোজারিও নিহত হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষকটি সকালবেলায় মর্নিং ওয়াকের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন।
কমল রোজারিও কালীগঞ্জের নাগরী এলাকার আমরুস রোজারিওর পুত্র এবং পানজোড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষক ছিলেন। তিনি স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায় ত্রিশ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন। তার বয়স ৬৫ বছর, এবং তিনি পরিবারে একমাত্র সন্তান ছিলেন।
স্থানীয় পুলিশ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, ট্রেনটি হঠাৎই নলছাটা এলাকার রেললাইন থেকে অতিক্রম করে এসে রোজারিওকে আঘাত করে। ট্রেনের গতি ও সময়ের সঠিক তথ্য এখনও যাচাই করা হচ্ছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে ট্রেনের চালক কোনো সতর্কতা সংকেত দেখেননি।
পানজোড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিস্টার মেরি দেবাশীষও রোজারিওর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি রোজারিওকে এক সম্মানিত সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের আদর্শ হিসেবে বর্ণনা করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর পক্ষ থেকে শোক প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
ঘটনাস্থল নলছাটা, টঙ্গি‑ভৈরব রেলপথের একটি অল্প পরিচিত অংশ, যেখানে রেললাইনটি গ্রামাঞ্চলের মধ্যে দিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই রেললাইনটি প্রায়ই দ্রুতগতির ট্রেনের চলাচল দেখে, তবে পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
পুলিশের মতে, রোজারিও ট্রেনের ধাক্কা পাওয়ার মুহূর্তে কোনো সিগন্যাল বা বাধা চিহ্ন দেখা যায়নি। তাই রেলওয়ে বিভাগকে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন সিগন্যালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পাদচিহ্নের স্পষ্টতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে রোজারিওর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে ট্রেনের ধাক্কা থেকে ঘটেছে বলে নির্ধারিত হয়েছে। পুলিশ রেজিস্টার্ড ফার্মে মামলাটি দায়ের করে, রেলওয়ে সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ চালিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের মতে, রেললাইন পারাপারের সময় পথচারীদের সতর্কতা অবলম্বন করা এবং ট্রেনের সিগন্যাল অনুসরণ করা জরুরি। রেলওয়ে সংস্থা ইতিমধ্যে এই ধরণের দুর্ঘটনা রোধে সিগন্যালের দৃশ্যমানতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
ঘটনার পর রেলপথের নিকটবর্তী এলাকায় অস্থায়ী রোডব্লক আরোপ করা হয়েছে, যাতে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান নিশ্চিত করা যায়। পুলিশ রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য প্রদান করবে, এবং রোজারিওর পরিবারকে যথাযথ সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এই ধরনের ট্রেন‑ধাক্কা দুর্ঘটনা পূর্বে গাজীপুর ও আশেপাশের এলাকায় ঘটেছে, তবে রোজারিওর মৃত্যু স্থানীয় সম্প্রদায়কে বিশেষভাবে শোকাহত করেছে। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিরা রেলওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও পথচারীর সুরক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
পরবর্তী আদালত বা তদন্তের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে পুলিশ ও রেলওয়ে বিভাগ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রোজারিওর পরিবার ও শিক্ষার্থীরা এই কঠিন সময়ে সমর্থন ও সহানুভূতি পেতে পারে, এটাই সকলের প্রত্যাশা।



