27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিদক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োল ক্ষমতার অপব্যবহার ও নথি জালিয়াতিতে দোষী...

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োল ক্ষমতার অপব্যবহার ও নথি জালিয়াতিতে দোষী প্রমাণিত

সিয়োলের একটি আদালত গত শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার পূর্ব প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োলকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নথি জালিয়াতির অভিযোগে দোষী রায় দেয়। রায়ের ভিত্তিতে তিনি ২০২৪ সালে স্বল্প সময়ের জন্য ঘোষিত সামরিক আইন প্রয়োগের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। একই সময়ে আদালত তার গ্রেফতার এড়াতে রাষ্ট্রপ্রধানের গার্ড ব্যবহার করা, পুরো ক্যাবিনেটের অনুমতি না নিয়ে সামরিক আইন ঘোষণা করা এবং মিথ্যা নথি তৈরি করে তা ধ্বংস করার বিষয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রসিকিউশন ইউনের উপর মোট চারটি বিচারের একটিতে রায় প্রদান করেছে এবং বাকি তিনটি বিচারের ফলাফলও শীঘ্রই প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই রায়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রসিকিউশন ১০ বছরের কারাদণ্ডের দাবি জানিয়েছে, যা ক্ষমতার অপব্যবহার ও নথি জালিয়াতির জন্য প্রযোজ্য। এছাড়া, গ্রেফতার এড়ানোর জন্য গার্ড ব্যবহার করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া বাধা দেওয়ার অভিযোগেও অতিরিক্ত শাস্তি চাওয়া হয়েছে।

ইউন ২০২৪ সালের শুরুর দিকে এক অপ্রত্যাশিত সামরিক আইন ঘোষণার মাধ্যমে দেশকে অস্থির অবস্থায় ফেলেছিলেন। এই ঘোষণার ফলে সংসদে তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়, যেখানে আইনসভা সদস্যরা দ্রুত জাতীয় সংসদে সমাবেশ হয়ে ইউনের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানায়। সামরিক আইনটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তবে তার ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা এবং জনসাধারণের বিরোধিতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য ছিল।

এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনের বাকি তিনটি বিচারের দিকনির্দেশনা সম্পর্কে অনুমান করা হচ্ছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন এবং সর্বোচ্চ স্তরের অপরাধ—বিদ্রোহের অভিযোগ রয়েছে। বিদ্রোহের অভিযোগের জন্য প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট রায় ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, আদালত ইউনের গার্ডকে ব্যবহার করে গ্রেফতার এড়ানোর প্রচেষ্টা, ক্যাবিনেটের পূর্ণ সম্মতি ছাড়া সামরিক আইন ঘোষণার সিদ্ধান্ত, এবং প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত বলে মিথ্যা দাবি করে নথি তৈরি করে পরে তা ধ্বংস করার বিষয়গুলো তদন্ত করছে। এই বিষয়গুলো প্রমাণিত হলে ইউনের ওপর অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা বাড়বে।

ইউন এই সকল অভিযোগের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন যে গ্রেফতার ওয়ারেন্টটি অবৈধ এবং জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য ক্যাবিনেটের সকল সদস্যের সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন নেই। তার মতে, সামরিক আইন ঘোষণার সময় কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ঘটেনি এবং তাই তাকে দোষী করা যায় না।

অধিকন্তু, ইউন ধারাবাহিকভাবে বলেন যে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাছে তাকে তদন্ত ও গ্রেফতার করার কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না। তিনি যুক্তি দেন যে সামরিক আইন ঘোষণার সময় কোনো প্রক্রিয়াগত লঙ্ঘন ঘটেনি, ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অধিকাংশ অভিযোগ অপ্রাসঙ্গিক।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিচার ব্যবস্থা সাধারণত দোষ স্বীকার করা বা দায়িত্ব গ্রহণকারী অপরাধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল রায় দেয়। তবে এই ক্ষেত্রে প্রসিকিউশন ইউনের কোনো অনুতাপের অভাবকে শাস্তি বাড়ানোর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা যুক্তি দেন যে দায় স্বীকার না করলে শাস্তি কঠোর হওয়া উচিত।

পূর্বে ২০২১ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক গুন-হে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং লঞ্চের অভিযোগে ২০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। যদিও পরে তাকে দয়া করে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে তিনি শেষ পর্যন্ত কারাবাসের শিকার হন। পার্কের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনের রায় দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

এই রায়ের পরিণতি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি ইউনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপিত হয়, তবে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার ব্যবহার এবং জরুরি অবস্থার ঘোষণার প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নজরদারি ও আইনি সীমা নির্ধারিত হতে পারে। অন্যদিকে, যদি রায় হালকা হয়, তবে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সামগ্রিকভাবে, ইউনের প্রথম রায় তার বাকি বিচারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের মূল সূচক হয়ে দাঁড়াবে এবং দেশের আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments