ঢাকার উত্তরা, ১১ নং সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডে অবস্থিত সাত তলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় শনি-রবিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। আগুনের তীব্রতা দ্রুত বাড়ার ফলে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তীব্র ধোঁয়া ও শিখা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আর ১৩জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আগুনের খবর ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলকে সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে জানানো হয়। তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই দমকলকর্মীরা তৎক্ষণাৎ অগ্নি নিভানোর কাজ শুরু করে। প্রথমে আগুনের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফোম ব্যবহার করা হয়, পাশাপাশি ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়।
দমকলকর্মীরা সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে, দ্রুতই আগুনের মূল উৎস সনাক্ত করে কাজ শুরু করে। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিখা ধীরে ধীরে নিভে যায়। সম্পূর্ণভাবে আগুন নিভিয়ে ফেলতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে, সকাল ১০টার দিকে দমকল দল কাজ শেষ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকা বাসিন্দারা তীব্র ধোঁয়া ও তাপ থেকে বেঁচে থাকার জন্য জরুরি সিঁড়ি ও জানালার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। উদ্ধারকৃত ১৩জনকে দ্রুত কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। আহতদের মধ্যে বয়স ও লিঙ্গের বৈচিত্র্য রয়েছে, তবে এখনো তাদের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
মৃতদেহের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও একজন নারী অন্তর্ভুক্ত, যাদের পরিচয় এখনও তদন্তের অধীন। মৃতদেহের অবস্থা ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে। পরিবারগুলোকে শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি সমন্বয় করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। দমকলকর্মী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাস লিক বা অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন, তবে তদন্ত চলাকালীন কোনো অনুমান করা হয়নি। ঘটনাস্থলে সংরক্ষিত সিসিটিভি রেকর্ড ও সাক্ষী বিবৃতি বিশ্লেষণ করে মূল কারণ বের করার কাজ চলছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দমকলকর্মীরা দ্রুতই অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। অফিসিয়াল সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগুনের বিস্তার রোধে সময়মতো সাড়া দেওয়া এবং সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহারই প্রাণ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্থানীয় পুলিশ ও দমকল বিভাগ একত্রে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত কোনো অবহেলা বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।



