22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য ১৫ সদস্যের শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিলেন

ট্রাম্প গাজা শাসনের জন্য ১৫ সদস্যের শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাপ্তি এবং নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৫ সদস্যের একটি শান্তি পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা জানিয়ে দেন। এই ঘোষণা তিনি শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি তার নিজস্ব সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প এই নতুন সংস্থাকে “সর্বকালের সবচেয়ে মহান ও মর্যাদাপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন এবং সদস্যদের নাম শীঘ্রই প্রকাশের ইঙ্গিত দেন। গাজা পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত কৌশলের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই পরিষদকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তুরস্কের টিআরটি গ্লোবাল এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোর অধীনে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য ১৫ জন ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটের একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা সরাসরি শান্তি পরিষদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। ট্রাম্প নিজেই এই পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন, আর মাঠ পর্যায়ে পরিচালনা বুলগেরিয়ার প্রখ্যাত কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভের নেতৃত্বে হবে বলে জানানো হয়েছে।

কমিটির নেতৃত্বে রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাবেক উপমন্ত্রী আলী শাথকে নিয়োগ করা হয়েছে। শাথ বর্তমানে মিশরে অবস্থান করছেন এবং গাজায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দায়িত্ব হবে টেকনোক্র্যাটিক নীতি অনুসারে গাজার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, সেবা প্রদান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় গাজা সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা মূলত হামাসকে লক্ষ্য করে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উল্লেখ করেন, পরবর্তী ধাপে গাজা থেকে সকল অননুমোদিত অস্ত্রধারী গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করে নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে।

হামাসের শীর্ষ নেতা বাসেম নাইম এই উদ্যোগকে “সঠিক দিশায় একটি পদক্ষেপ” বলে স্বাগত জানিয়ে, গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখন সময় এসেছে কমিটিকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় মানবিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

শান্তি পরিষদের গঠন গাজার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি পরিকল্পনা সফল হয়, তবে গাজার শাসন কাঠামোতে টেকনোক্র্যাটিক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই উদ্যোগের গ্রহণযোগ্যতা এবং বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো এখনও স্পষ্ট নয়।

গাজা অঞ্চলে মানবিক সংকটের তীব্রতা এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের পরিপ্রেক্ষিতে, এই শান্তি পরিষদ গঠনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে সদস্যদের নাম প্রকাশ এবং কমিটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের ফলাফল গাজার জনগণ, প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল হবে। গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments