বিসিবি বোর্ডের পরিচালক এম. নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার শো‑কজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। বোর্ডের সহ‑পরিচালক ইফতেখার রহমানের মতে, নাজমুলের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো ক্রিকেটারদের প্রতি আক্রমণাত্মক রূপে বিবেচিত হওয়ায় শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নাজমুলের মন্তব্যগুলো একটি মিডিয়া সেশনে প্রকাশ পায়, যেখানে তিনি ক্রিকেটারদের আচরণ ও পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তার ভাষা অনেকের কাছে আপত্তিকর শোনায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিকেটারদের সংগঠন ও ভক্তদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্বকারী কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন তখনই জানিয়ে দেন, যদি নাজমুল পদত্যাগ না করেন তবে বিপিএল (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ) এর প্রথম ম্যাচের আগেই টুর্নামেন্ট বন্ধ করার হুমকি দেন। নাজমুলের প্রত্যাখ্যানের ফলে দুইটি ম্যাচই বাতিল হয়ে যায়, যা লিগের সূচি ও আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দেয়।
বিসিবি তৎক্ষণাৎ নাজমুলকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে। তবে তিনি এখনও ক্রিকেটে ফিরে আসতে অস্বীকার করেন, ফলে তার পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া সত্ত্বেও তার উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।
ইফতেখার রহমান জানান, নোটিশ জারির পর থেকে পুরো দিন নাজমুলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, নোটিশের সময়সীমা ১৭ তারিখের দুপুর পর্যন্ত নির্ধারিত, যার মধ্যে নাজমুলের লিখিত বা মৌখিক উত্তর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শো‑কজ নোটিশের শর্ত অনুসারে, যদি নাজমুল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা না দেন, তবে বিষয়টি বিসিবির শৃঙ্খলাবদ্ধ কমিটিতে পাঠানো হবে। এই কমিটি বিসিবি সংবিধানের ধারা অনুযায়ী গঠিত এবং এর প্রধান কাজ হল নীতিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি নির্ধারণ করা।
শৃঙ্খলাবদ্ধ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মিতু ফায়াজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইফতেখার জানান, কমিটির সঙ্গে ইতিমধ্যে পরামর্শ করা হয়েছে এবং সংবিধানের বিধান অনুসারে প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। নাজমুলের কোনো উত্তর না দিলে, কমিটি তার বিরুদ্ধে পদত্যাগ বা অপসারণের মত কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
আইনি দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ইফতেখার উল্লেখ করেন, যদি নাজমুল আদালতে মামলা হলে এবং হজির না দেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত শাস্তি আরোপিত হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নাজমুলের স্বয়ংক্রিয়ভাবে শাস্তি ভোগ করতে হবে, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করতে পারে।
এখন পর্যন্ত নাজমুলের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি, এবং শো‑কজ নোটিশের শেষ সময়সীমা দ্রুত নিকটবর্তী। বিসিবি এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিসিবি জানিয়েছে, শো‑কজ নোটিশের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভবিষ্যতে এমন ধরনের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নীতি অনুসরণ করা হবে। এছাড়া, বিপিএলের শিডিউল পুনরায় চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, যাতে টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, সংবিধানের নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সকল কর্মকর্তার জন্য অপরিহার্য, এবং কোনো সদস্যের অমার্জিত মন্তব্যের ফলে পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। শো‑কজ নোটিশের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হবে, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।



