র্যাব ১১ কোম্পানি মুরাদনগর উপজেলার লাজৈ এলাকার এক পরিত্যক্ত ডোবা থেকে রাত ২টার দিকে দুটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই অস্ত্রগুলো জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় হাইওয়ে পুলিশের থানা থেকে লুট হওয়া বলে জানা যায়। উদ্ধার কাজটি র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার সাদমান ইবনে আলমের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।
সাদমান ইবনে আলম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে ডোবা থেকে স্কচ টেপে মোড়ানো অবস্থায় দুটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে একটি হাইওয়ে পুলিশের চাইনিজ রাইফেল, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা থেকে লুট হয়েছিল। রাইফেলটি পুলিশ বাহিনীর সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং তার অনুপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক সৃষ্টি করেছিল।
দ্বিতীয় অস্ত্রটি অবৈধভাবে আনা হয়েছে বলে investigators ধারণা করছেন। এর উৎপত্তি ও মালিকানা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে র্যাবের তদন্ত দল এটিকে অপরাধমূলক সরবরাহের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মুরাদনগর থানায় অস্ত্র আইনের অধীনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের নাম ও পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে র্যাবের অনুসন্ধান দল জেলা জুড়ে অতিরিক্ত লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কোনো অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সরঞ্জাম লুট হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই সময়ে হাইওয়ে পুলিশের গুলিবর্ষণ, রাইফেল ও অন্যান্য অস্ত্রের অনুপস্থিতি জনসাধারণের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছিল। র্যাবের এই ধরণের অভিযান সেই ফাঁক পূরণে সহায়তা করছে।
র্যাব ১১ কোম্পানি নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনের আগে সব লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



