ইরানের শাসন পরিবর্তনের পর একটি স্বাধীন সরকার গঠিত হলে, বহিষ্কৃত যুবরাজ রেজা পাহলভি ইসরায়েলকে তৎক্ষণাৎ স্বীকৃতি দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নতুন ইরান যদি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের স্থায়ী শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নতুন কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলবে।
পাহলভি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হবে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে অবিলম্বে স্বীকৃতি প্রদান করা হবে, যা অঞ্চলের কূটনৈতিক গতিবিধিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনও কঠোর রক্ষণশীল নীতি অনুসরণ করছে, এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার ধারণা তার জন্য স্বীকৃত নয়। তাই, রেজা পাহলভির এই মন্তব্যকে বর্তমান ইরানি সরকার কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে এবং তা অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
বহিষ্কৃত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে রেজা পাহলভি দীর্ঘদিন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে ছিলেন এবং ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার তার প্রস্তাবও এই দৃষ্টিভঙ্গির ধারাবাহিকতা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বাধীন ইরান আন্তর্জাতিক সমাজে দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় এবং সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত স্বীকৃতি ও সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা, মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তবে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিশেষ করে রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতারা, এই প্রস্তাবকে জাতীয় স্বার্থের হুমকি হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি রেজা পাহলভি উল্লেখিত শর্তগুলি পূরণ হয়, তবে ইরানের ভবিষ্যৎ নীতি ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকার সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। তবে, বাস্তবে এমন পরিবর্তন ঘটবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত, কারণ বর্তমান শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থন পায়।
অন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রেজা পাহলভির এই মন্তব্যকে ইরানের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক দিকনির্দেশের একটি সম্ভাব্য দৃশ্য হিসেবে বিবেচনা করছেন, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য প্রথমে দেশীয় রাজনৈতিক কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, রেজা পাহলভি ইসরায়েলকে স্বীকৃতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পরিবেশে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, বর্তমান ইরানি শাসনের কঠোর অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।



