ইলেকশন কমিশন (ইসিসি) গত রাতে প্রকাশিত একটি সরকারি নোটিশে জানিয়েছে যে পবনা-১ ও পবনা-২ আসনগুলো ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের অংশ হিসেবে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলোও নির্ধারিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে প্রার্থীর নামের আবেদনপত্র জমা, যাচাই, আপিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার ইত্যাদি।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রার্থীর নামের আবেদনপত্র রিটার্নিং অফিসারকে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত। এরপর ১৯ জানুয়ারি আবেদনপত্রের যাচাই (সক্রুটিনি) অনুষ্ঠিত হবে। রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা ২০ জানুয়ারি থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকবে। প্রার্থীরা যদি তাদের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে চান, তবে তা ২৬ জানুয়ারির মধ্যে করতে হবে। শেষ ধাপে, নির্বাচনী প্রতীক (সিম্বল) বরাদ্দের কাজ ২৭ জানুয়ারি সম্পন্ন হবে।
এই সময়সূচি প্রকাশের আগে, ৬ জানুয়ারি ইসিসি একই দুই আসনের জন্য নির্বাচনের সময়সূচি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আদালতের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার সেই স্থগিতাদেশকে বাতিল করে দেয়, ফলে পূর্বে নির্ধারিত সময়সীমা পুনরায় কার্যকর হয়েছে। এই আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে পবনা-১ ও পবনা-২ আসনের ভোটের প্রস্তুতি দ্রুততর গতিতে এগিয়ে যাবে।
ভোটের প্রক্রিয়া নতুনভাবে নির্ধারিত নির্বাচনী সীমানার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে, যা ইসিসি গেজেটে ৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। এই সীমানা পুনর্গঠন পূর্বের সীমারেখা থেকে কিছু পরিবর্তন আনে এবং নির্বাচনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
ইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত এই সময়সূচি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মতো সম্পন্ন হওয়ার প্রতিশ্রুতি নির্দেশ করে। প্রার্থীরা এখন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের আবেদনপত্র জমা দিয়ে, যাচাই প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হতে পারে। একই সঙ্গে, রাজনৈতিক দলগুলোও এই সময়সূচি অনুসারে তাদের প্রচারণা পরিকল্পনা সাজাতে পারবে।
অধিকন্তু, আপিলের সময়সীমা নির্ধারিত হওয়ায় রিটার্নিং অফিসারের কোনো সিদ্ধান্তে আপত্তি থাকলে তা আইনি পথে সমাধান করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
প্রতীক বরাদ্দের শেষ তারিখ ২৭ জানুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায়, প্রার্থীরা তাদের প্রচারণা চালানোর আগে সঠিক প্রতীক পেতে পারবেন, যা ভোটারদের জন্য পরিচিতি ও পছন্দের বিষয়।
পবনা-১ ও পবনা-২ আসনের ভোট ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হওয়ায়, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এই দুই আসনের ফলাফল বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ইসিসি এই সময়সূচি অনুসারে কাজ সম্পন্ন করলে, নির্বাচনের সময়সূচি মসৃণভাবে চলবে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।
সামগ্রিকভাবে, ইসিসি কর্তৃক প্রকাশিত নতুন সময়সূচি এবং আদালতের হস্তক্ষেপের ফলে পবনা-১ ও পবনা-২ নির্বাচনের প্রস্তুতি দ্রুততর এবং স্বচ্ছভাবে অগ্রসর হবে। এই প্রক্রিয়া দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের সামগ্রিক সময়সূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



