যুক্তরাষ্ট্রের মাইক ওয়াল্টজ যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উপস্থিতি নিয়ে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়ে দেন, ওয়াশিংটন ইরানের জনগণের সঙ্গে সংহতি বজায় রেখেছে এবং হত্যাযজ্ঞ বন্ধের জন্য সব সম্ভাব্য উপায় বিবেচনা করা হচ্ছে। ওয়াল্টজের বক্তব্য অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট—ইরানে সশস্ত্র হস্তক্ষেপের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্পগুলো মূল্যায়ন করা হবে।
ইরানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন দেখা গেছে। মোল্লাতন্ত্রের বিরোধী প্রতিবাদে নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণে হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, তবে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তার স্বর কিছুটা সংযত শোনায়।
ওয়াল্টজ উল্লেখ করেন, ইরানে হত্যাযজ্ঞের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে এবং সরকার ব্যাপক মৃত্যুদণ্ডের পরিকল্পনা করছে না। তিনি যুক্তি দেন, ট্রাম্পের শৈলী কথাবার্তা নয়, কাজের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা, এবং তাই তিনি ইরানে হিংসা কমাতে সব বিকল্প উন্মুক্ত রেখেছেন। তেহরানের দাবি যে প্রতিবাদগুলো বিদেশি ষড়যন্ত্রের ফল, তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, ইরানের শাসকরা এখন পূর্বের তুলনায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে, ফলে তারা জনগণের শক্তি দেখিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
ইরানের সহকারী রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দরজি নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করেন, ইরান কোনো উত্তেজনা বাড়াতে বা সংঘাতে জড়াতে চায় না, এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের অস্থিরতাকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগকে মিথ্যা ও তথ্য বিকৃতি বলে খণ্ডন করেন। দরজি আরও জানান, যে কোনো ধরনের আক্রমণ—সরাসরি হোক বা পরোক্ষ—এর জন্য আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে কঠোর ও যথাযথ প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে, এটি কোনো হুমকি নয়, বরং আইনি বাস্তবতা।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেঞ্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনকে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করার জন্য অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে হস্তক্ষেপ করা বৈধ নয় এবং এই ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
এই আলোচনার পর, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে মতবিনিময় চালিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক নীতি উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে, এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা নির্ধারণে নিরাপত্তা পরিষদের রায় প্রভাবশালী হবে।
ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য অবস্থান এবং রাশিয়ার সমালোচনা উভয়ই ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা পরিষদের পরবর্তী সেশনে এই বিষয়গুলো নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা ও সম্ভাব্য সমাধান প্রস্তাবের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



