মস্কোতে নিযুক্ত ব্রিটিশ কূটনীতিককে রাশিয়া গোপন তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে গুপ্তচর বলে অভিযুক্ত করেছে, আর যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও দুরভিসন্ধিমূলক বলে খারিজ করেছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ কর্মীর মস্কোতে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বৃহৎ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় দেশের সরকারই এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
রাশিয়ার সরকার কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মস্কোর যুক্তরাজ্য দূতাবাসে কাজ করা এই কূটনীতিক গোপন তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মস্কোতে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করে, তাকে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া এই ধরনের পদক্ষেপকে তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর রাশিয়ার এই অভিযোগের প্রতি তীব্র প্রত্যাখ্যান জানিয়ে, তা দুরভিসন্ধিমূলক ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে। দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার এই ধরনের অভিযোগ পূর্বে বহুবার করা হয়েছে, তবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি। যুক্তরাজ্য সরকার এই বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ কূটনীতিকের বহিষ্কারের পর যুক্তরাজ্য সরকার দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যেখানে রাশিয়ার অভিযোগকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দপ্তর উল্লেখ করেছে, রাশিয়ার এই ধরনের অভিযোগের ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর চাপ বাড়তে পারে এবং ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ বাড়ে চলেছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে রাশিয়ান দূতাবাসের কয়েকজন কর্মীকে বের করে দেয়া হয়েছিল, এবং রাশিয়া একই সময়ে যুক্তরাজ্যের কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কারের হুমকি জানিয়েছিল। এই পটভূমিতে বর্তমান ঘটনা আরও জটিলতা যোগ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই ধরনের অভিযোগ প্রায়ই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয় এবং তা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে শক্তি প্রদর্শনের একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়। তবে যুক্তরাজ্য স্পষ্ট করে বলেছে, তার কূটনৈতিক কর্মীরা আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে কাজ করে এবং কোনো গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেনি। এই পারস্পরিক দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার জটিলতা বাড়াতে পারে।
রাশিয়ার সরকার এই অভিযোগকে তার জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, এবং যুক্তরাজ্যকে তার কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে। একই সঙ্গে, যুক্তরাজ্য রাশিয়ার এই দাবির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছে।
দুই দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করেনি, তবে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই ধরনের চ্যানেলগুলো ভবিষ্যতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বহিষ্কারের ফলে মস্কোতে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক উপস্থিতি হ্রাস পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, তবে উভয় পক্ষই সম্পূর্ণ কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এড়াতে চায়। যুক্তরাজ্য সম্ভবত রাশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রতিবাদমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে, যার মধ্যে রাশিয়ান কূটনীতিকদের মস্কোতে সীমিত কার্যক্রমের শর্ত আরোপ করা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা রাশিয়া-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছেন। উভয় দেশের কূটনৈতিক নীতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলো পরস্পরের উপর প্রভাব ফেলতে থাকবে, এবং এই প্রভাবের পরিমাণ নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মতো দেখা যাচ্ছে।



