যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার গাজা অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে একটি নতুন “শান্তি বোর্ড” গঠন করার ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপটি মার্কিন সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়ের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। বোর্ডের গঠন গাজা-ইস্রায়েল সংঘাতের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক নেটওয়ার্ক ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্টে জানিয়ে বলেন, “শান্তি বোর্ড গঠন করা আমার জন্য গৌরবের বিষয়।” তিনি যোগ করেন যে, বোর্ডের সদস্যদের নাম শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে।
বোর্ডের গুণগত মান সম্পর্কে ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি এটিকে “এতদিনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এবং বিশিষ্ট বোর্ড” বলে বর্ণনা করেন। যদিও সদস্যদের তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে এই ঘোষণার মাধ্যমে বোর্ডের গুরুত্ব ও প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়েছে।
একই সময়ে, ১৫ সদস্যের একটি প্যালেস্টাইনি প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করবে। এই কমিটি গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।
প্রযুক্তিগত কমিটি গাজা শান্তি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে থাকবে, এবং ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই কাঠামোটি গাজা অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর মোতায়েনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই বাহিনী গাজা অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচিত প্যালেস্টাইনি পুলিশ ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দেবে।
হামাসের সিনিয়র নেতা বাসেম নায়েমের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখন মধ্যস্থতাকারী, আমেরিকান গ্যারান্টি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হল কমিটিকে সক্রিয় করা। তিনি এই দায়িত্বগুলোকে গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রথমে ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়, যা হামাসের হাতে থাকা সব বন্দীর মুক্তি এবং গাজা-ইস্রায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটায়। এই চুক্তি গাজা অঞ্চলে সাময়িক শীতলতা আনতে সহায়তা করে।
পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বর্তমানে চালু রয়েছে, তবে মানবিক সহায়তার ঘাটতি এবং কিছু অঞ্চলে চলমান হিংসা এই ধাপকে জটিল করে তুলেছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণে ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্যালেস্টাইনি পক্ষের প্রধান দাবি হল ইসরায়েল গাজা থেকে সম্পূর্ণ সামরিক প্রত্যাহার করবে, যা পরিকল্পনার মূল শর্তের একটি। তবে এই প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্রত্যাগের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকার করেছে, যদিও ইসরায়েল এই শর্তকে অপরিহার্য বলে দাবি করে। এই দ্বিমুখী অবস্থান গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতিকে প্রভাবিত করছে।
ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফের একটি পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হামাসের কাছ থেকে নির্দিষ্ট শর্তের পূরণ প্রত্যাশা করছে। এই প্রত্যাশা গাজা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা, মধ্যস্থতাকারীর সক্রিয় ভূমিকা এবং গাজা শান্তি বোর্ডের কার্যকরী তত্ত্বাবধান গাজা-ইস্রায়েল সংঘাতের সমাধানে মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়াবে।



