28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইন্টারিম সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের প্রস্তুতি...

ইন্টারিম সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলমের সঙ্গে আল জাজিরার সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যা আগস্ট ২০২৪-এ ঘটিত গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পর অনুষ্ঠিত হবে, তার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে ইন্টারিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম আল জাজিরার সঙ্গে কথা বললেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা কাটিয়ে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পথে অগ্রসর করা এখন সরকারের প্রধান কাজ।

২০২৪ সালের আগস্টে, দীর্ঘমেয়াদী শাসনকালে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে উসকে দিয়ে একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ঘটেছিল। ঐ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা ভারতে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন। উথাল-পাথাল পরবর্তী শূন্যতা পূরণে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়, যার প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই সরকারের মুখপাত্র।

শফিকুল আলমের মতে, অস্থায়ী সরকারের সামনে থাকা কাজগুলো অত্যন্ত জটিল। প্রথমে বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত দেশকে কিছুটা শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে হয়, তারপর ধীরে ধীরে নির্বাচন প্রক্রিয়া চালু করে গণতান্ত্রিক শাসনের ভিত্তি গড়ে তুলতে হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই দুই ধাপই দেশের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য অপরিহার্য।

নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও তীব্রতর হয়েছে। ছাত্র নেতা একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়া, মিডিয়া অফিসে অগ্নিসংযোগ, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং এক হিন্দু ব্যক্তির মারাত্মক হিংসাত্মক আক্রমণসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইন্টারিম সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সাধারণত মিডিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অনিচ্ছুক ছিলেন। শফিকুল আলমই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, যিনি আল জাজিরার সঙ্গে কথা বলার জন্য সম্মতি দেন। তিনি জানান, অন্যান্য উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় মিডিয়া অনুরোধে সাড়া দিতে পারছিলেন না।

শফিকুল আলমের মতে, বর্তমান সময়ে সরকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে নির্বাচন পরিচালনা করা। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো মন্তব্য যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, তা এড়িয়ে চলা জরুরি। তাই, তারা মিডিয়ার প্রশ্নের উত্তর দিতে সীমিত সময়ই দিতে পারেন এবং মূলত কাজের উপর মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করছেন।

আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে। যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনকে দৃঢ় করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে। অন্যদিকে, যদি নিরাপত্তা অবস্থা অবনতিতে থাকে বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম দেখা দেয়, তবে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

শফিকুল আলমের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ইন্টারিম সরকার এখনো দেশের শাসন কাঠামোকে স্থিতিশীল করার জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদী যে, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ সরকার গঠন করা সম্ভব হবে, যা দেশের উন্নয়ন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সক্ষম হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, শফিকুল আলমের সঙ্গে আল জাজিরার এই আলোচনায় ইন্টারিম সরকারের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সংলাপের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে, যাতে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মসৃণভাবে এগিয়ে যায়।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments