চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে ১৪ জানুয়ারি রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এক যুবক ও এক নারীর ওপর সহিংস নির্যাতন ঘটেছে। অভিযোগ অনুসারে, দুজনকে তাদের চুল কেটে ফেলা হয়, গলায় জুতার মালা পরিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়।
ঘটনাটি গ্রামবাসীর জানার পর স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুজনকে নিরাপদে উদ্ধার করে দর্শনা থানায় নিয়ে যায়। তবে নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়, ফলে এখনো কোনো গ্রেপ্তার হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, কুন্দিপুর গ্রাম থেকে স্বপন আলী এবং আসমা খাতুনের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল। স্বপন আলী, যিনি আহমদ আলীর পুত্র, রাতে আসমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে আরিফ মিয়া, আসমার স্বামী, দ্বারা ধরা পড়েন।
আরম্ভিক তথ্য অনুযায়ী, আরিফ মিয়া এবং তার সহচররা স্বপন আলী ও আসমাকে গ্রামাঞ্চলের এক গাছের কাছে নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্টভাবে নির্যাতন করেন। গুলিয়ে চুল কাটা, গলায় জুতার মালা পরিয়ে দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা—এই ধরনের কাজকে গ্রামবাসীরা মধ্যযুগীয় কায়দা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময় দুজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল, তবে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। দুজনকে দর্শনা থানার অধীনে রাখা হয় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
দর্শনা থানার ওসির মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিল না হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। উভয় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে, যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় আইনজীবী আহসান আলীও বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে তা আদালতের মাধ্যমে বিচার করা উচিত এবং কোনো ব্যক্তির হাতে আইনবহির্ভূত শাস্তি নেওয়া যাবে না। তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
গ্রামবাসীরা এই ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে থাকে। তারা দাবি করে, অপরাধীকে উদাহরণস্বরূপ শাস্তি দিয়ে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধ করা দরকার। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়ে বলেন, আইনগত ব্যবস্থা ছাড়া কোনো ধরনের স্বৈরাচারী শাস্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তার করার জন্য অতিরিক্ত দল গঠন করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহে মনোনিবেশ করেছে।
এ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল না হওয়ায়, আদালতে কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই মামলা দায়ের করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে।
এই ঘটনার পর, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সামাজিক সংস্থা ও মানবাধিকার গোষ্ঠীও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা নির্যাতনের শিকারদের সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রদান এবং পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান জানিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, কুন্দিপুর গ্রামে ঘটিত এই নির্যাতনমূলক ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শক সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে আইনগত ব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতা দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



