28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড স্থগিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত

ইরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড স্থগিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত

ইরানের সরকারবিরোধী প্রতিবাদে গ্রেফতার ৮০০ জনের ফাঁসির শাস্তি স্থগিত করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের এক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন যে, ইরান ১৪ জানুয়ারি বুধবার নির্ধারিত ফাঁসির কার্যকরী ব্যবস্থা এখন বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশের চাপের উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একই সময়ে ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানান।

হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে লিভিট উল্লেখ করেন, ইরানের কর্তৃপক্ষ ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা থেকে বিরত হয়েছে। তিনি যোগ করেন, এই তথ্য প্রেসিডেন্টের সরাসরি জানার পর প্রকাশিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ইরানের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের মানবাধিকার রেকর্ডের ওপর দীর্ঘদিনের সমালোচনা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী প্রতিবাদে গ্রেফতার ও শাস্তি সম্পর্কিত নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোও ইরানের শাস্তি নীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তাই ইরানের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক চাপের ফলাফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

ইরানের সরকারবিরোধী প্রতিবাদগুলো গত কয়েক মাসে তীব্রতর হয়ে উঠেছে, যেখানে সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর শোনা যায়। এই পরিস্থিতিতে গ্রেফতারকৃতদের ওপর মৃত্যুদণ্ডের হুমকি আন্তর্জাতিক নজরে এসেছে। তবে ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত ফাঁসির পরিকল্পনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সময়ে কোনো ব্যক্তিকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো ইচ্ছা বা পরিকল্পনা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফাঁসির বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারে নেই এবং তা এখনো কোনো আলোচনার বিষয় নয়। এই মন্তব্য ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে ফাঁসির সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

আরাগচি আরও উল্লেখ করেন, ইরানের বিচার ব্যবস্থা বর্তমানে প্রতিবাদ সংক্রান্ত মামলায় অন্যান্য শাস্তি প্রয়োগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ফাঁসির পরিবর্তে কারাবাস ও অন্যান্য শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা বেশি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের মোকাবিলায় কৌশলগত পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

ইরানের এই পদক্ষেপের ফলে দেশীয় রাজনৈতিক পরিবেশে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। ফাঁসির শাস্তি স্থগিত হলে প্রতিবাদকারীদের মধ্যে কিছুটা শিথিলতা দেখা দিতে পারে, তবে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর দাবি এখনও তীব্র। তাই ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি কীভাবে পুনর্গঠন হবে তা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ইরানের এই সিদ্ধান্তকে মানবাধিকার সংক্রান্ত চাপের একটি সাড়া হিসেবে বিশ্লেষণ করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই পদক্ষেপে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে। তবে একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি এই পরিবর্তনকে কতটা গ্রহণযোগ্য করবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থা ইরানের মানবাধিকার নীতি নিয়ে আরও আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ, গ্রেফতারকৃতদের বিচার প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

সারসংক্ষেপে, ইরান ৮০০ বিক্ষোভকারীর ফাঁসির শাস্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অফিসের ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন। এই ঘটনা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আলোচনার নতুন মোড়ের সূচনা করতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments