অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ১৫ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত করে, যেখানে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশ” অনুমোদন করা হয়। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে জুলাই ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের ফৌজদারি দায় থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।
সভা প্রধানত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। সভার পর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল অধ্যাদেশের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানিয়ে দেন যে, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে এই আইনটি গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত হবে।
আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন যে, বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে গণঅভ্যুত্থান বা বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে অনুরূপ দায়মুক্তির বিধান প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা ৪৬-এ এমন আইন প্রণয়নের সুযোগ রয়েছে, যা এই ধরনের দায়মুক্তি প্রদানকে বৈধতা দেয়।
অধ্যাদেশের মূল উদ্দেশ্যকে তিনি “অন্তর্বর্তী সরকারের ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতি” হিসেবে বর্ণনা করেন। জুলাই ২০২৪-এ ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যাবে না, এটাই সরকারের অঙ্গীকার।
অধ্যাদেশের আওতায়, ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে দায়ের করা মামলাগুলি প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না। তবে, ব্যক্তিগত বা সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা বা প্রতিশোধমূলক অপরাধের ক্ষেত্রে এই দায়মুক্তি প্রযোজ্য হবে না।
এই বিধানটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে, এই সময়ে গৃহীত কোনো অপরাধমূলক দায়িত্ব থেকে অংশগ্রহণকারীরা অব্যাহতি পাবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের প্রতি কিছু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যদিও তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য দেননি। তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দায়মুক্তি বিধানটি যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ না হয়, তবে তা আইনি শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে।
অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশের পর, সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, সরকার এই দায়মুক্তি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে, দায়মুক্তি প্রয়োগের সময় যদি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ উদ্ভূত হয়, তবে সেসব ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জুলাই ২০২৪-এ সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের জন্য দায়মুক্তি প্রদান, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংঘাতের মোকাবিলায় কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।
এই অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন এবং তার পরিণতি সম্পর্কে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি পরবর্তী সপ্তাহে আরও তথ্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



