চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের চংকিং প্রদেশের কুইংফু গ্রামে বসবাসরত ২০ বছরের এক তরুণী, দাইদাই, তার বয়স্ক পিতার শূকরের দুটো কাতার কাজের জন্য সহায়তা চেয়ে ডুইইন (চীনের টিকটক) এ পোস্ট করেন। তিনি উল্লেখ করেন, পিতা বয়স বাড়ার ফলে শূকর কাতার শারীরিক চাপ সামলাতে পারবে না, তাই গ্রামবাসী ও বাইরে থেকে সাহায্য চাইলেন।
দাইদাই তার পোস্টে সাহায্যকারীকে গ্রামে একটি শূকর ভোজের আমন্ত্রণ জানান, যেখানে দুটো শূকর কাটা হবে এবং ঐতিহ্যবাহী দুবার রান্না করা শূকর মাংস, স্টিমড রিবস, স্যুপ ও ঘরে তৈরি মদ পরিবেশন করা হবে। এই ধরনের বড় সম্প্রদায়িক খাবার চীনের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পোস্টটি এক মিলিয়নেরও বেশি লাইক পায় এবং দ্রুতই সাড়া পায়। হাজার হাজার গাড়ি গ্রাম পথে গিয়ে পৌঁছায়, যদিও কাতার কাজের জন্য মাত্র দুইটি শূকরই প্রয়োজন। গাড়ি ভিড়ের ফলে গ্রামপথে গাড়ি জ্যাম সৃষ্টি হয়, যা কিছু পথকে অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।
ড্রোনের মাধ্যমে তোলা ছবিতে দেখা যায়, গাড়ি গুলোর পাশে ধানক্ষেতের সারি রয়েছে, আর গাড়িগুলো একে একে পার হয়ে গ্রামপ্রবেশের চেষ্টা করছে। কিছু মানুষ দীর্ঘ পথ হেঁটে এসে পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে গাড়ি জ্যামের ঝামেলা এড়ানো যায়।
দাইদাই গাড়ি চালকদের জন্য সতর্কতা প্রকাশ করেন, বিশেষ করে শহরের মানুষদের গ্রাম্য রাস্তায় চালানোর সময় সতর্ক থাকতে বলেন। তিনি বলেন, গ্রাম্য রাস্তায় গতি কমিয়ে চালানো এবং পথের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
একজন গাড়ি চালক, যিনি ১০০ কিলোমিটার বেশি দূর থেকে গিয়ে পৌঁছেছেন, তিনি গ্রামটির পরিবেশকে তার শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে তুলনা করেন, যখন তার পরিবার শূকর পালন করত। তিনি জানান, গ্রামটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গাড়ির নম্বরপ্লেট দেখা গিয়েছে, যা এই ঘটনাটির ব্যাপক আকর্ষণকে নির্দেশ করে।
শূকর কাতার কাজটি শেষ হওয়ার পর, গ্রামবাসী ও সহায়তাকারীরা একত্রে একটি বিশাল ভোজে অংশ নেন। এই ভোজটি অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, যেখানে ১০০,০০০ের বেশি দর্শক লাইভ দেখেন এবং ২০ মিলিয়ন লাইক অর্জন করে।
স্থানীয় সরকার এই ঘটনাকে ‘ফ্ল্যাশ-ট্যুরিজম’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং পর্যটন প্রচারমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত দর্শনার্থী ও খাবারের চাহিদা মেটাতে, স্থানীয় কর্মকর্তারা অতিরিক্ত শূকর দান করেন, যাতে সবাইকে খাবার সরবরাহ করা যায়।
এই ঘটনাটি গ্রাম্য চীনকে ডিজিটাল যুগে কীভাবে সংযুক্ত করা যায় এবং সম্প্রদায়িক ঐতিহ্যকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, তা প্রদর্শন করে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একক ব্যক্তির আবেদন দ্রুত বৃহৎ সামাজিক প্রতিক্রিয়া পেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে অপ্রত্যাশিত উত্সাহ যোগায়।
কুইংফু গ্রামে এই অনন্য অভিজ্ঞতা স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরবর্তী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পারস্পরিক সহায়তা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতি নতুন আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ সামাজিক মিডিয়া আহ্বানগুলো গ্রামাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও পর্যটন উন্নয়নে কী ভূমিকা রাখবে, তা নজরে থাকবে।
এই ঘটনায় দেখা যায়, সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সমন্বয় কীভাবে বৃহৎ জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং গ্রাম্য জীবনের বাস্তব সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে। দাইদাইয়ের অনুরোধের ফলে গ্রামটি একদিনের জন্য দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে আসা মানুষের সমাবেশে রূপান্তরিত হয়, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে।



