দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইউন সুক-ইয়োল শুক্রবার প্রথম রায়ের মুখোমুখি হবেন। তিনি ২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন ঘোষণার সঙ্গে যুক্ত অপরাধের জন্য আটটি আলাদা মামলায় বিচারের মুখে। রায় শোনার স্থান সিউলের উচ্চ আদালত, এবং এটি তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
ইউনকে এক বছর আগে জাতীয় সংসদ তার ক্ষমতা অপসারণের জন্য ইম্পিচমেন্ট ভোটে অনুমোদন দেয়। তবে ইম্পিচমেন্টের পরও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন, ফলে তার ওপর অপরাধের অভিযোগ আরোপ করা সম্ভব হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে অপরাধমূলক মামলায় বিচার করা যায় না, শুধুমাত্র বিদ্রোহ ও দেশদ্রোহের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যতিক্রম থাকে। ইউনের ক্ষেত্রে বিদ্রোহের অভিযোগ প্রযোজ্য, তাই তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশন ইউনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিদ্রোহ, এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগ তুলেছে। মোট আটটি মামলায় বিভিন্ন ধরণের আইনি ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের সম্ভাবনাও রয়েছে।
২০২৪ সালে ইউন সামরিক আইন প্রয়োগের চেষ্টা করেন, যদিও কোনো যুদ্ধ বা জাতীয় জরুরি অবস্থা ছিল না। তিনি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জাতীয় সংসদের কমপ্লেক্সে প্রবেশ বন্ধ করতে নির্দেশ দেন, যাতে সংসদ সদস্যরা তার ডিক্রি রোধ করতে না পারে।
ইউনের সামরিক আইন ঘোষণার ফলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও সমর্থন উভয়ই দেখা যায়। মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে, এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশ্বাসের ফাটল দেখা দেয়।
প্রসিকিউশন দাবি করে যে ইউন সংসদের স্পিকার এবং প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের গ্রেফতার করার আদেশ দিয়েছিলেন, যা সংসদের স্বায়ত্তশাসনকে সরাসরি হুমকি দেয়। এই পদক্ষেপগুলোকে তিনি সংবিধানিক শাসনকে উল্টে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।
ইউন তখন বলেছিলেন যে সামরিক আইন প্রয়োগের কারণ ছিল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমর্থনকারী ‘অ্যান্টি-স্টেট’ গোষ্ঠীর হুমকি, তবে পরবর্তীতে এই যুক্তি রাজনৈতিক সমস্যার কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রকাশ পায়।
প্রসিকিউশন ইউনের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে এবং তাকে ‘অনুতাপহীন’ বলে বর্ণনা করেছে। তবে দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি, ফলে শাস্তি বাস্তবে আজীবন কারাদণ্ডে সীমাবদ্ধ হতে পারে। সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বর মাসে, যখন একাধিক হত্যাকাণ্ডের



