19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্পের ইরান নীতি: দুই সপ্তাহের উত্তেজনা ও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

ট্রাম্পের ইরান নীতি: দুই সপ্তাহের উত্তেজনা ও সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। ২ জানুয়ারি তিনি ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি প্রতিবাদকারীদের ওপর হিংসা ব্যবহার করে তবে “রক্ষার” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আর এই সপ্তাহে তিনি সাহায্য “আসছে” বলে পুনরায় দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন।

প্রথমে ট্রাম্পের জানুয়ারি ২ তারিখের মন্তব্যে ইরানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হিংসাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ পায়। এরপরের দিনগুলোতে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের দলকে ইরানীয় দমনমূলক কার্যক্রমের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। ইরানি মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন যে ২৬ বছর বয়সী দোকানদার এরফান সোলতানি, যিনি প্রতিবাদে অংশগ্রহণের জন্য দোষী সাব্যস্ত, তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “যদি এমন কিছু ঘটে, আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করব,” এবং ইরানে তার চূড়ান্ত লক্ষ্যকে “জয়লাভ” হিসেবে উল্লেখ করেন।

বুধবারের দিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের প্রস্তুতি বাড়ছে। কাতারের আল-উদেইদ বিমানবেসে অবস্থিত আমেরিকান, কাতারী ও ব্রিটিশ কর্মীদের স্থানান্তর করা হচ্ছে। একই সময়ে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মী ও নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়, যা গত জুনের একই নির্দেশের স্মারক, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বোমা ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় আঘাত হানে।

বিমান চলাচল বন্ধ, ফ্লাইট বাতিলের খবরও ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্লেষকদের মতে সম্ভাব্য আকাশীয় আক্রমণের প্রস্তুতি নির্দেশ করে। তবে এই মুহূর্তে আকার ও পরিধি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ পায়নি।

সেই একই দিন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মিডিয়ার প্রশ্নোত্তরে তিনি হঠাৎ করে অবস্থান পরিবর্তন করেন। তিনি জানিয়ে দেন, “ইরানে মৃত্যুদণ্ডের কার্যক্রম থেমে গেছে,” এবং “মৃত্যুদণ্ডের কোনো পরিকল্পনা নেই”। এই তথ্য তিনি “বিশ্বাসযোগ্য সূত্র” থেকে পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন, তবে সূত্রের প্রকৃতি বা নাম প্রকাশ না করে কেবল “অন্য পাশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের” এবং “পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত লোকদের” কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি “ভালো বিবৃতি” উল্লেখ করেন।

এই ঘোষণার পর প্রশ্ন ওঠে, ইরানীয় সংকট সত্যিই শেষ হয়েছে নাকি সাময়িক বিরতি মাত্র। ট্রাম্পের মন্তব্যে কোনো স্পষ্ট সামরিক পরিকল্পনা প্রকাশ না করলেও, তিনি ভবিষ্যতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন তা নির্ধারণের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

প্রেসিডেন্টের এই রকম দ্বিমুখী বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ইতিমধ্যে টানাপোড়েনের শীর্ষে, এবং কোনো হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও তেল বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানীয় সরকার ও তার সমর্থকরা ট্রাম্পের হুমকিকে রাজনৈতিক চাপে ব্যবহার করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমিয়ে দেখাতে চাইছে, যাতে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দলও সতর্কতা বজায় রেখেছে। কাতার, সৌদি আরব ও অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য সামরিক অপারেশনের প্রস্তুতি ও তার পরিণতি নিয়ে আলোচনা চলছে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের ইরান নীতি এখনো অনিশ্চিত সীমায় রয়েছে। তিনি হুমকি ও সতর্কতা উভয়ই ব্যবহার করে ইরানের আচরণ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, তবে একই সঙ্গে সামরিক বিকল্পকে সম্পূর্ণ বাদ দিচ্ছেন না। ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেবে তা নির্ভর করবে ইরানের অভ্যন্তরীণ গতিবিধি ও আন্তর্জাতিক চাপের ওপর।

এই বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা ও কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানীয় জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো ভুল পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments