নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত ভোটারদের পাসওয়ার্ড সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে কল সেন্টার ও হোয়াটসঅ্যাপ সেবা প্রদান করা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভোটারদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এবং পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু করা। সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের সমস্যার সমাধানে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন সাপোর্ট দেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে পোস্টাল ভোটের জন্য ব্যবহৃত বিডি অ্যাপের পাসওয়ার্ড রিসেটের প্রয়োজন হলে ভোটাররা নির্দিষ্ট হটলাইন অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন। ইসি এই সেবাকে ভোটারদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে, ভোটারদেরকে সঠিক তথ্য প্রদান এবং প্রযুক্তিগত সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।
কল সেন্টারটি সপ্তাহের সাত দিন, প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। এই সময়সীমা নিশ্চিত করে যে ভোটাররা যেকোনো সময়ে সমস্যার সম্মুখীন হলে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেতে পারেন। সেন্টারটি ইসির অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ও আইটি বিভাগ দ্বারা পরিচালিত হবে এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মীরা কল গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
হটলাইন নম্বরটি হল +৮৮০৯৬১০০০০১০৫, যা দেশব্যাপী সকল পোস্টাল ভোটারদের জন্য উপলব্ধ। এই নম্বরে কল করলে ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পর পাসওয়ার্ড রিসেটের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নম্বরটি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করে, তবে প্রয়োজনে লাইভ এজেন্টের সহায়তাও প্রদান করা হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ সেবার জন্য তিনটি নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে: +৮৮০১৩৩৫১৪৯৯২০, +৮৮০১৩৩৫১৪৯৯২৩-৩২ এবং +৮৮০১৭৭৭৭৭০৫৬২। এই নম্বরগুলোতে টেক্সট বা ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে সমস্যার বিবরণ পাঠালে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম দ্রুত উত্তর দেবে। হোয়াটসঅ্যাপের সুবিধা হল ছবি বা স্ক্রিনশট সংযুক্ত করে সমস্যার স্পষ্ট চিত্র প্রদান করা সম্ভব, যা সমাধানকে ত্বরান্বিত করে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য মোট ১৫,৩৩,৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এই সংখ্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে এবং পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটারদেরকে একটি অনন্য কোড ও ব্যালট প্যাকেজ পাঠানো হবে, যা তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূরণ করে ফেরত পাঠাবে।
পোস্টাল ভোটের সময়সীমা ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। এই পাঁচ দিনব্যাপী সময়ে ভোটাররা তাদের ব্যালট পূরণ করে ডাকযোগে ইসির নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠাবে। ভোটারদেরকে সময়মতো ব্যালট পাঠাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে ভোটের গণনা প্রক্রিয়ায় কোনো বিলম্ব না হয়। ইসি এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ব্যালট সংগ্রহ করে গোপনীয়তা রক্ষা করে গণনা শুরু করবে।
ব্যালটের ডেলিভারির পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে ডাক সেবা ব্যবহার করে করা হবে। ভোটাররা ব্যালট প্যাকেজে থাকা রিটার্ন লেবেল ব্যবহার করে পোস্ট অফিসে জমা দিতে পারবেন। পোস্টাল ভোটের এই পদ্ধতি বিশেষত দূরবর্তী ও গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী ভোটারদের জন্য সুবিধাজনক, কারণ তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে না গিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করতে পারবেন।
ইসির এই পদক্ষেপকে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটার অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পেলে নির্বাচনের বৈধতা ও প্রতিনিধিত্বশীলতা শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে, পাসওয়ার্ড সমস্যার দ্রুত সমাধান ভোটারদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
বিপক্ষের কিছু রাজনৈতিক দলও ইসির এই সেবার বিষয়ে জানানো হয়েছে এবং তারা ভোটারদেরকে সঠিক সময়ে সহায়তা নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে, কিছু দল এখনও পোস্টাল ভোটের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যা ইসির পরবর্তী পর্যায়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটের ফলাফল গণনা শেষ হওয়ার পর নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ভোটারদেরকে সময়মতো সহায়তা প্রদান এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করার জন্য কল সেন্টার ও হোয়াটসঅ্যাপ সেবার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে পোস্টাল ভোটের পরিসর বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।



