মাদোনা বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করে ইরানের প্রতিবাদকারীদের প্রতি সমর্থনের বার্তা শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি মরক্কোতে পরিবারের সঙ্গে কাটানো ছুটির মুহূর্তের ভিডিও যুক্ত করেন এবং ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
বিনোদন জগতের অন্যতম বিশিষ্ট নায়িকা তার পোস্টে মরক্কোর স্মৃতি ও ইরানের জনগণের সংগ্রামের তুলনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছুটির সময়ে মরক্কোর মরুভূমিতে ঘোড়া চড়া, স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করা এবং ইচ্ছামতো পোশাক পরা তার জন্য স্বাভাবিক, আর ইরানের মানুষকে এই মৌলিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
মাদোনা বিশেষভাবে ইরানের নারীদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরানের নারীরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে, গান গাইতে, নাচতে এবং নিজের ধর্মীয় পথ বেছে নিতে পারে না, যা তার নিজের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। এই সীমাবদ্ধতা তাদেরকে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।
বক্তব্যের শেষে তিনি ইরানের বর্তমান জাতীয় পতাকার ইমোজি যুক্ত করেন, যা তার সমর্থনের দৃঢ়তা নির্দেশ করে। এ ধরনের প্রকাশনা পশ্চিমা মঞ্চের শীর্ষের শিল্পীদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে কমই দেখা যায়, ফলে তার পোস্টটি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ইরানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঢেউ দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি এবং রাজনৈতিক দমনমূলক নীতির ফলে জনগণ মৌলিক পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। প্রতিবাদকারীরা সরকারী নীতির বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে এসেছে।
প্রতিবাদগুলো মূলত শহর-গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করছে। তাদের দাবি মূলত জীবনের মৌলিক অধিকার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার দিকে কেন্দ্রীভূত।
সরকারি পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিবাদকারীদের উপর গুলিবর্ষণ, গ্যাস ব্যবহার এবং অন্যান্য সহিংসতা চালু করেছে। পাশাপাশি, ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা হয়েছে যাতে প্রতিবাদকারীরা অনলাইন মাধ্যমে সমন্বয় করতে না পারে।
মৃত্যু ও আঘাতের সংখ্যা এখনও নির্ভুলভাবে প্রকাশ না হলেও অনুমান করা হচ্ছে যে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে, আর মৃত্যুর সংখ্যা দশ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। বিচারিক বিভাগও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি জানিয়ে দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে সশস্ত্র হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন, যদি বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। তিনি ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন।
তবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আরব দেশগুলো ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, হঠাৎ সামরিক পদক্ষেপের ফলে পারস্পরিক প্রতিশোধের ঝুঁকি বাড়বে এবং অঞ্চলে আরও অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তাই তারা এই ধরনের পদক্ষেপকে বিলম্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মাদোনার এই প্রকাশনা ইরানের বর্তমান সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও বেশ কিছু বিশিষ্ট শিল্পী এখনও নীরবতা বজায় রেখেছেন, মাদোনার সমর্থন অন্যদেরকে কথায় না, কাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
ইরানের জনগণ এখনো স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপই তাদের সংগ্রামকে শক্তি প্রদান করবে।



