28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিনোদনঅস্কার অ্যানিমেশন বিভাগে কিম্পো হান্টারস ও ডেমন স্লেয়ারকে দেখা যাবে

অস্কার অ্যানিমেশন বিভাগে কিম্পো হান্টারস ও ডেমন স্লেয়ারকে দেখা যাবে

অস্কার পুরস্কারের অ্যানিমেশন শাখা এই বছর দুটি নতুন প্রোডাকশনকে কেন্দ্র করে আলোচনার মুখে। নেটফ্লিক্সের কিম্পো হান্টারস এবং জনপ্রিয় অ্যানিমে ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল, দুটোই গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়নে উঠে এসেছে এবং অস্কারের জন্যও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০২ সালে সর্বোত্তম অ্যানিমেটেড ফিচার পুরস্কার প্রতিষ্ঠার পর থেকে, এই ক্যাটেগরি মূলত বড় স্টুডিওর ৩ডি সিজিআই পরিবারিক চলচ্চিত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডিজনি, পিক্সার ও ড্রিমওয়ার্কসের প্রোডাকশনগুলো ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়েছে, আর অন্য কোনো শৈলী বা স্বতন্ত্র পদ্ধতি খুব কমই স্বীকৃতি পেয়েছে।

অতীত দুই দশকে কিছু ব্যতিক্রমী জয়ী হয়েছে: ক্লে-অ্যানিমেশন ‘ওয়ালেস ও গ্রোমিট: দ্য কার্স অফ দ্য ওয়্যার-র্যাবিট’, গিলারমো দেল টোরোর স্টপ-মোশন ‘পিনোকিও’, এবং লাটভিয়ান স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘ফ্লো’। তবে এশীয় অ্যানিমেশন, যার মধ্যে জাপানি অ্যানিমে, দক্ষিণ কোরিয়ার হানগুক এনিমি এবং চীনের ডংহুয়া অন্তর্ভুক্ত, বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও অস্কার ভোটারদের দৃষ্টিতে এখনও সীমিত দৃষ্টিভঙ্গি রয়ে গেছে।

অস্কার ভোটারদের কাছে এশীয় অ্যানিমেশন মূলত হায়াও মিয়াজাকির কাজ এবং তার স্টুডিও ঘিব্লির চলচ্চিত্রগুলোই স্বীকৃত। মিয়াজাকির হ্যান্ড-ড্রয়েন, চিত্রশৈলীর নান্দনিকতা এবং মানবিক থিমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি গল্পগুলোকে এশীয় অ্যানিমেশনের একমাত্র প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দেখা হয়। এ পর্যন্ত গিব্লি ব্যতীত কেবল মামোরু হোসোডার ২০১৯ সালের ‘মিরাই’ অস্কার নোমিনেশন পেয়েছে।

এই বছর পরিস্থিতি বদলাতে পারে। নেটফ্লিক্সের ‘কিম্পো হান্টারস’ একটি রঙিন, নীয়ন আলোয় ভরা অ্যাকশন মিউজিক্যাল, যেখানে একটি জনপ্রিয় গার্ল গ্রুপ স্টেজ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি গোপনে ডেমন হান্টার হিসেবে কাজ করে। চলচ্চিত্রটি অ্যানিমেশনের প্রচলিত পরিবারিক থিমের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, আধুনিক পপ সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের সঙ্গে মিশ্রিত একটি নতুন ধাঁচের গল্প উপস্থাপন করে।

অন্যদিকে, ‘ডেমন স্লেয়ার: ইনফিনিটি ক্যাসল’ অ্যানিমের সর্বশেষ ব্লকবাস্টার, যা সিরিজের শেষ ত্রয়ীর প্রথম অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। দ্রুতগতির যুদ্ধ দৃশ্য, তীব্র রঙের ব্যবহার এবং গাঢ় থিমের সমন্বয়ে গঠিত এই চলচ্চিত্রটি মিয়াজাকির নরম, শিশুসুলভ দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। উভয় চলচ্চিত্রই গোল্ডেন গ্লোবের নোমিনেশনে অন্তর্ভুক্ত, যা অস্কার ভোটারদের দৃষ্টিতে এশীয় অ্যানিমেশনের নতুন দিক উন্মোচনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

অস্কার অ্যানিমেশন বিভাগে এখন পর্যন্ত গিব্লি-ভিত্তিক কাজের আধিপত্য ছিল, তবে এই দুই চলচ্চিত্রের উপস্থিতি ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে পারে। যদি এই চলচ্চিত্রগুলো অস্কার জয়ের পথে অগ্রসর হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় এশীয় অ্যানিমেশনকে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হবে।

অ্যানিমেশন প্রেমিকদের জন্য এই পরিবর্তনটি উত্তেজনাপূর্ণ, কারণ এটি শিল্পের সীমানা প্রসারিত করে এবং নতুন সৃষ্টিকর্তাদের স্বীকৃতি দেয়। অস্কার জয়ী হওয়া বা না হওয়া যাই হোক, কিম্পো হান্টারস ও ডেমন স্লেয়ার ইতিমধ্যে গ্লোবাল অ্যানিমেশন বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

অস্কার অ্যানিমেশন শাখা এখন পর্যন্ত যে রকমের সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে, তা ধীরে ধীরে ভেঙে নতুন ধারার কাজকে স্বাগত জানাতে পারে। এশীয় অ্যানিমেশনের বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেতে পারে, যদি ভোটাররা এই নতুন প্রস্তাবনাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়।

অবশেষে, অস্কার জয়ী হওয়া চলচ্চিত্রগুলো শিল্পের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে, এবং এই বছর দুটো ভিন্ন শৈলীর কাজের উপস্থিতি অ্যানিমেশন শিল্পের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments