২৬ বছর বয়সী কিয়েরনান শিপকা, হোয়াটসন আর্টসের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর চতুর্থ সিজনে নতুন ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। তিনি হ্যাঁসের মতো তীব্র আর্থিক জগতের স্টার্ট‑আপ টেন্ডারের সিইও‑এর সহকারী চরিত্রে উপস্থিত হচ্ছেন। এই সিজনটি শোয়ের সম্পূর্ণ পুনর্গঠনকে চিহ্নিত করে, যেখানে মূল ব্যাংক পিয়ারপয়েন্টের কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। শিপকারা এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে, শোয়ের নতুন শক্তি ও গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে যোগ দিচ্ছেন।
শিপকা প্রথমবারের মতো টেলিভিশনে বড় স্ক্রিনে উপস্থিত হন ‘ম্যাড মেন’‑এর স্যালি ড্র্যাপার চরিত্রে, যেখানে তিনি সাতটি সিজন ধরে পিতামাতার জটিল সম্পর্ক ও কর্মস্থলের অশান্তি পর্যবেক্ষণকারী কিশোরী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন। ‘ম্যাড মেন’‑এর শেষ পর্বের পর থেকে, তিনি প্রায় দুই দশক পর আবার প্রধান নেটওয়ার্কে ফিরে এসেছেন, তবে এবার তার চরিত্রের দায়িত্ব ও প্রভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন।
‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর চতুর্থ সিজনে শোয়ের মূল কাঠামোকে পুনর্গঠন করা হয়েছে; পিয়ারপয়েন্ট ব্যাংককে বাদ দিয়ে নতুন ব্যবসায়িক মডেল ও চরিত্রের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মূল কাস্টের মধ্যে মাত্র মাইহালা, মারিসা আবেলা ও কেন লুয়ং অবশিষ্ট রয়েছেন, আর বাকি স্থানগুলো নতুন অভিনেতা ও নতুন গল্পের মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনটি শোয়ের দর্শকদের জন্য নতুন উত্তেজনা ও অপ্রত্যাশিত মোড়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।
নতুন চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যাক্স মিংহেলা, যিনি টেন্ডার নামের ভেনমো-সদৃশ পেমেন্ট স্টার্ট‑আপের সিইও হিসেবে কাজ করছেন। শিপকা তার সহকারী হিসেবে কাজ করবেন, তবে শোয়ের গতি ও কাহিনীর প্রবাহে তার ভূমিকা তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সহকারী হিসেবে শুরু হলেও, তার সিদ্ধান্ত ও কাজের পরিণতি শোয়ের মূল সংঘাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকবে।
শিপকা এই সুযোগটি পেতে প্রথমে শোটি দেখেননি; তার এজেন্টরা যখন এই প্রস্তাব দেন, তখনই তিনি শোয়ের রেপুটেশন ও বিষয়বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হন। ‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর যৌনতা, মাদক ও নৈতিক ধূসর অঞ্চলের চিত্রায়ন তার জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল। অডিশন প্রক্রিয়ায় তাকে যে দৃশ্যগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো তার মতে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও তীব্র ছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাকে এই ভূমিকায় নিশ্চিত করেছে।
‘ম্যাড মেন’ শেষ করার পর শিপকা চার সিজন ‘চিলিং অ্যাডভেঞ্চারস অফ সাব্রিনা’‑এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। নেটফ্লিক্সের এই সিরিজটি আর্চি কমিকসের ভিত্তিতে তৈরি, যা তাকে তরুণ দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তবে এই সিরিজের শেষে তিনি নিজের ক্যারিয়ারকে আরও পরিপক্ক ও জটিল ভূমিকার দিকে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
‘সাব্রিনা’ শেষ করার পর শিপকা নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন। তিনি এমন প্রকল্পে অংশ নিতে চান যা তার অভিনয় দক্ষতাকে নতুন মাত্রা দেয় এবং তাকে প্রাপ্তবয়স্ক শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই লক্ষ্যকে মাথায় রেখে তিনি ‘লংলেগস’ ও ‘দ্য লাস্ট শোগার্ল’ মত স্বতন্ত্র ও বয়স্ক থিমের চলচ্চিত্রে কাজ করেন।
‘লংলেগস’‑এ তিনি ওসগুড পারকিন্সের সঙ্গে কাজ করে অপ্রচলিত চরিত্রে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পান। একই সময়ে, গিয়া কোপোলা পরিচালিত ‘দ্য লাস্ট শোগার্ল’‑এ তিনি একটি জটিল মানবিক গল্পের অংশ হন, যা তার অভিনয় পরিসরকে বিস্তৃত করেছে। এই অভিজ্ঞতাগুলো শিপকারা ‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর মতো উচ্চ-ঝুঁকির, প্রাপ্তবয়স্ক থিমের শোতে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত করেছে।
‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর নতুন সিজনটি শিপকারা জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যেখানে তিনি টেলিভিশনের প্রাপ্তবয়স্ক জগতে পুনরায় প্রবেশ করছেন। শোয়ের তীব্র আর্থিক জগত, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে। তার চরিত্রের মাধ্যমে দর্শকরা আর্থিক শিল্পের অন্ধকার দিক ও মানবিক দুর্বলতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ পেতে পারেন।
শোয়ের নতুন কাঠামো ও শিপকারা’র যোগদানের ফলে ‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর ভক্তরা প্রত্যাশা করছেন আরও তীব্র নাটকীয়তা ও অপ্রত্যাশিত মোড়। শোটি এখন আর শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেনের নয়, বরং ব্যক্তিগত নৈতিকতার পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিপকারা’র উপস্থিতি এই দিককে আরও উজ্জ্বল করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
কিয়েরনান শিপকা, যিনি ‘ম্যাড মেন’‑এর স্যালি ড্র্যাপার হিসেবে প্রথমবারের মতো দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, এখন ‘ইন্ডাস্ট্রি’‑এর নতুন চরিত্রের মাধ্যমে তার ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন। তার এই পরিবর্তনটি প্রমাণ করে যে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক থিমের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে এবং নতুন শিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে তিনি কী ধরনের ভূমিকা গ্রহণ করবেন, তা সময়ই বলবে।



